রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ অপরাহ্ন
বাড়িতে ভিক্ষুক এলে সরকারি রেশন ও অন্যান্য ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সংগ্রহ করা হতো তাঁর নামে নিবন্ধিত সিমকার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) নম্বর। পরে সেই সিমকার্ড ব্যবহার করে কল দেওয়া হতো টার্গেট ব্যক্তিকে। তাঁর মা, মেয়ে বা স্ত্রী দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি জানিয়ে টাকা চাইত প্রতারকরা। ভিক্ষুকের এমএফএস নম্বরে নেওয়া হতো টাকা। এর পর তারা ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলত।
এমন অভিনব কৌশলে প্রতারণা চালিয়ে আসা দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির এলআইসি শাখার অ্যানালাইসিস ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় গত সোমবার রাজশাহীর পবা থানা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
সিআইডি সদরদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে মামলা করেন এক ভুক্তভোগী। গ্রেপ্তাররা হলো– সুলতানা খাতুন ও তার স্বামী মোবারক হোসেন। প্রতারণা করে নেওয়া ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও চারটি সিমকার্ড তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, সুইডেন প্রবাসী বোনের পরিচয় দিয়ে তাঁর মাকে কল করা হয়। তাঁকে বলা হয়, সুইডেন থেকে দেশে এসে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন; কিন্তু তার কাছে টাকা নেই। তখনই চিকিৎসার খরচ পাঠানোর কথা বলে একটি এমএফএস নম্বর দেওয়া হয়। বাদীর মা প্রতারকের কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন সময় মোট চার লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা পাঠান। পরে তিনি মেয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে সেটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়।
তদন্তে জানা যায়, মোবারক-সুলতানা দম্পতি তাদের বাড়িতে যাওয়া ভিক্ষুকদের সিমকার্ড কৌশলে নিয়ে নিত। এরপর সেই নম্বর থেকে বিভিন্নজনকে কল দিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হতো। ভুক্তভোগীদের কেউ কণ্ঠ শুনে সন্দেহ প্রকাশ করলে প্রতারকরা বলত, ঠান্ডা লাগায় বা দুর্ঘটনার কারণে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। টাকা পাওয়ার পর ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলায় তাদের শনাক্ত করা যেত না। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিআইডি মঙ্গলবার তাদের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি তুলে ধরে।