সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
মো: আনোয়ার হোসেন .. একপাশে ঝুপড়ি ঘরে পলিথিন মুড়িয়ে মানবেতর জীবনযাপন, অন্যপাশে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—এই ছিল বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের নতুনচর গ্রামের অসহায় মাহিনুরের জীবন। তবে সেই ঘোর অমানিশা কেটে এখন তার মুখে হাসির ঝিলিক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং এক সাংবাদিকের মানবিক প্রচেষ্টায় মাহিনুর পেলেন থাকার ঘর ও আয়ের উৎস হিসেবে একটি ছোট দোকান।শনিবার (৪ এপ্রিল) বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাকিলা আরজুমান (বা সংশ্লিষ্ট বর্তমান ইউএনও) এবং দৈনিক বরিশাল সময় পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেনের যৌথ সহযোগিতায় মাহিনুরকে এই ঘর ও দোকানঘরটি হস্তান্তর করা হয়।ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন কেদারপুর ইউনিয়নে সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়ে দেখেন, রাস্তার পাশে পলিথিন টানিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন মাহিনুর। তার এই অসহায়ত্ব দেখে আনোয়ার হোসেন তাকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। তিনি মাহিনুরের জন্য সরকারি টিন বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ইউএনও এক বান ঢেউ টিন বরাদ্দ দেন। পরবর্তীতে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন ব্যক্তিগতভাবে আরও এক বান টিন, ঘর তৈরির কাঠ এবং লেবার খরচসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করে মাহিনুরকে একটি থাকার ঘর ও ব্যবসা করার মতো দোকান তৈরি করে দেন।নিজের নতুন ঘর দেখে আবেগাপ্লুত মাহিনুর বলেন, “আমার মা-বাবা নেই। দীর্ঘ বছর ধরে রাস্তার পাশে পলিথিন দিয়ে থাকতাম। আমি কোনোদিন ভাবিনি যে টিনের ঘরে থাকতে পারবো। আনোয়ার ভাইয়ের কারণে আজ আমি মাথা গোঁজার ঠাঁই আর আয়ের পথ পেলাম। আমি ওনার জন্য মন থেকে দোয়া করি।”এ বিষয়ে সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মাহিনুরের কষ্ট দেখে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে এসেছি। প্রশাসন ও ব্যক্তিগত সহযোগিতায় তাকে একটি স্থায়ী ঠিকানা দিতে পেরে নিজের কাছেও ভালো লাগছে। সমাজের সামর্থ্যবানরা এভাবে এগিয়ে এলে কোনো মানুষকেই আর রাস্তায় থাকতে হবে না।”স্থানীয়রা এই মহতী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।