শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদন>>বাংলাদেশি নাগরিকদের সুইস ব্যাংকসহ বিদেশি অন্যান্য ব্যাংকে থাকা টাকা ও লেনদেনের যাবতীয় তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধকারী কেন্দ্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) এই তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত যাদের নাম পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে এসেছে, তাদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগকে ( সিআইডি) অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৬ মার্চের মধ্যে হলফনামা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এসব প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে হবে।বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার অর্থপাচার সংক্রান্ত দুদক, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইউয়ের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশন অনুযায়ী গত ২৬ জানুয়ারি কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ৬৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা আদালতে দাখিল করে বিএফআইইউ ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সে যাদের নাম এসেছে, তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে। এখনও মামলা হয়নি। এরপর পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্স কেলেঙ্কারিতে নাম আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকাসংবলিত প্রতিবেদন তুলে ধরেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক।
পরে রিটের পক্ষে আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘২০১৬ ও ২০১৭ সালে পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্স প্রকাশের পর যে তালিকা দেওয়া হচ্ছে, তা সংযুক্ত করে রিট আবেদনের সঙ্কেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার এ বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে।
তখন রাষ্ট্রপক্ষে আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় আসা তথ্যগুলো সংগ্রহ করে এমএলএআরের মাধ্যমে ফরেন ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (এফআইইউ) কাছে রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। গত পাঁচ বছরে যতগুলো রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে, তার তথ্য দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছরের পাঠানো ৮০১টি রিকোয়েস্টের মধ্যে ১১৯টি তারা গ্রহণ করেছে।
তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এমএলএআর পাঠানো হয়েছে। সুইচ ব্যাংক থেকে নাম উদ্ধার করা অনেক কঠিন বিষয়। এ নিয়ে বিএফআইইউ চেষ্টা করছে।’ এমন জবাবে তাকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেন, ‘আপনি মরে যাওয়ার আগেই মরে যাচ্ছেন কেন?’
জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা মরে যাচ্ছি না। বিদেশ থেকে ইতিমধ্যে অনেক টাকা উদ্ধার করে আনা হয়েছে। এমএলএআরের মাধ্যমে টাকা আসছে।’ আদালত বলেন, ‘আমরা দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করছি। এখানে কারও কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।’
এরপর আদেশ দেন হাইকোর্ট।
২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর ডিআরইউর মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা বলেন।
এ পর্যায়ে ওই বছরের ২২ নভেম্বর অর্থপাচারকারী দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানা চাওয়ার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা স্বতঃপ্রণোদিত জানতে চান হাইকোর্ট।
এর মধ্যেই গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বিদেশি ব্যাংক, বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস।