বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>>পদোন্নতির দাবিতে নওগাঁর সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। হঠাৎ করে শিক্ষকদের এই কর্মবিরতিতে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।
নওগাঁয় শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের ‘নো প্রমোশন নো ওয়ার্ক’ স্লোগানে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় নওগাঁ সরকারি কলেজের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার সাধারণ পরিষদের শিক্ষকরা।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ, নওগাঁ সরকারি কলেজ নওগাঁ ইউনিটের আহ্বায়ক মনোতোষ কুমার জনকণ্ঠকে বলেন, “বিধি মোতাবেক অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তা ৫ বছরে পদোন্নতি পেয়ে ষষ্ঠ গ্রেডে উন্নীত হলেও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা এখনও এন্ট্রি পদ ৯ম গ্রেডেই রয়েছেন। প্রতি বছর পদোন্নতির জিও জারি হবার কথা থাকলেও গত দুই বছর ধরে প্রভাষকদের পদোন্নতির কোনো জিও জারি হয়নি। আমলাতান্ত্রিক সদিচ্ছার অভাব ও বিভিন্ন অজুহাতের কারণে বারবার সময়ক্ষেপণের ফলে শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকবৃন্দ পদোন্নতির স্বাভাবিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে পদোন্নতিযোগ্য প্রভাষকরা আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আমরা অতিসত্বর পদোন্নতির সরকারি প্রজ্ঞাপন জারিসহ বৈষম্য নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দাবি করছি।”
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদ, নওগাঁ সরকারি কলেজ নওগাঁ ইউনিটের সদস্য মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক জনকণ্ঠে বলেন, “বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস অনুযায়ী, পদোন্নতির নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনপূর্বক চাকরিকাল পাঁচ বছর অতিবাহিত হলেই পদোন্নতি পাবার কথা। কিন্তু বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬ ও ৩৭ ব্যাচের যোগ্য প্রভাষকবৃন্দ পদোন্নতির সকল যোগ্যতা অর্জন করেও ৮ থেকে ১৩ বছর ধরে এখনও প্রথম পদোন্নতি পাননি। এমতাবস্থায় প্রভাষকদের পদোন্নতির GO (সরকারি আদেশ) অনতিবিলম্বে জারি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে সবিনয় অনুরোধ করছি।”
শিক্ষকরা আরও বলেন, “আমাদের সন্তান তুল্য শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হোক আমরা চাই না। আমরা ক্লাসে ফিরে যেতে চাই। দ্রুত আমাদের বিষয়ে জিও জারি করে আমাদের ক্লাসে ফিরে যেতে দিন।”
এ কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষকদের দ্রুত পদোন্নতির জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির দাবি করা হয়। নতুবা ‘নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারী দেন তারা।