বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >>অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। গত সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে’ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের নামে থাকা সোশ্যাল মিডিয়ায় থাকা প্ল্যাটফরমগুলো বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগের কোন সংবাদ গণমাধ্যম প্রকাশ করতে পারবে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফরমগুলোতে লেখা যাবে কিনা আওয়ামী লীগের বিষয়ে।
সোমবার প্রকাশিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘গণহত্যায় অভিযুক্ত দলটির নেতাকর্মীদের বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যেকোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।’
এ ঘোষণার পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে সরকার নিজেই সেটি ক্ষুণ্ন করতে যাচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে দাবি করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা মুক্তমতের মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে না।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি ওই নিষিদ্ধ সত্তার সদস্য বা অংশ না হয়েও যদি তাদের নিয়ে কোনো বক্তব্য দেন এবং যদি ধরে নেওয়া হয় বক্তব্যটা পক্ষে বা সমর্থনে গেছে, সেটা তখন এই আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।’
উদ্বেগটা সেখানেই। কারণ ঠিক কোন বক্তব্যে বা কার্মকাণ্ডে আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে সেটা কে ঠিক করবে? সেটার মাপকাঠিই-বা কী হবে? প্রশ্ন রাখেন সারা হোসেন।
সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা-১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটি এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেছেন, সংবাদ বা মতামত প্রকাশে কোনো বাধা নেই। তবে নিষিদ্ধ সত্তা তথা আওয়ামী লীগের পক্ষে বা সমর্থনে কিছু প্রকাশ করা যাবে না।
আইনজীবীরা বলছেন, যে আইনের ক্ষমতাবলে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেটির পরিধি বিস্তৃত এবং কিছু বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা নেই। ফলে আইনটির অপব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।