বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >>আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে রিপন দাস (২৭)নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে আনোয়ারা উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিনের ভিডিও ফুটেজে রিপন দাসের উপস্থিতি দেখা গেছে। নীল রঙের গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় বটি হাতে ছিলেন তিনি।
গ্রেফতারকৃত রিপন দাস কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা এলাকার হরিশ চন্দ্র লেনের সাধুর বাড়ির মৃদুল দাসের ছেলে। তিনি পেশায় ফার্মেসি কর্মচারী।
আলিফ হত্যার ঘটনায় ২৯ নভেম্বর রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তার বাবা জামাল উদ্দিন। এতে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
নগর পুলিশের এডিসি কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, আনোয়ারা উপজেলা থেকে রিপন দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তবে ভিডিও ফুটেজে নীল রঙের গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় বটি হাতে তাকে দেখা গেছে। এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোরে ভৈরব রেলস্টেশন থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ নভেম্বর কোতোয়ালি থানার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরপরই আদালত এলাকায় শুরু হয় তার অনুসারীদের তাণ্ডব। কারাগারে নেয়ার জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে অনুসারীরা প্রিজন ভ্যানটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন।
একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর এবং চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আলিফ লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারাঙ্গা এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে।
একইদিন কোতোয়ালি থানায় আরো একটি মামলা করেন আলিফের বড়ভাই খানে আলম। আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ১১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।
এর আগে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা করে পুলিশ। এছাড়া সবশেষ মঙ্গলবার একই অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলরসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মোহাম্মদ উল্লাহ চৌধুরী নামে এক ব্যবসায়ী। নতুন মামলাটি নিয়ে ২৬ নভেম্বর আদালত এলাকায় সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা মামলায় গ্রেফতার হলেন ১১ জন।