বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >>চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের গাড়িবহরের গাড়িতে ধাক্কার ঘটনায় হওয়া মামলায় ট্রাকচালক এবং তার সহকারীকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।রিমান্ডে যাওয়া দুজন হলেন- ট্রাকচালক মুজিবুর রহমান ও তার সহকারী রিফাত মিয়া। দুজনই ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের চতুর্থ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হকের আদালত শুনানি শেষে এ রিমান্ড দেন। এর আগে, পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৯৮ নম্বর ধারা মতে, নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়াভাব, ওভারটেকিং, ওভারলোডিং বা নিয়ন্ত্রণহীন মোটরযান চালানোর ফলে কোনো দুর্ঘটনায় জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতি হয়, তা হলে মোটরযানের চালক বা কন্ডাক্টর বা সহায়তাকারী ব্যক্তির অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
শুনানিতে অংশ নেয়া আইনজীবী মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের গাড়িবহরের গাড়িতে ধাক্কার ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ৯৮ ধারায় হওয়া মামলায় দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি হাজী রাস্তার মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামে হত্যার শিকার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের গ্রামের বাড়ি চুনতি ফারাঙ্গা এলাকা থেকে ফিরছিলেন হাসনাত-সারজিসসহ অন্যরা। তাদের গাড়িবহরে ১২টি মোটরসাইকেল, দুটি প্রাইভেটকার ও একটি পাজেরো গাড়ি ছিল। আলিফের বাড়ি থেকে ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চুনতি হাজী রাস্তার মাথা।
ঐ এলাকায় বহরের গাড়িগুলো গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে উঠছিল। প্রথমে ১২টি মোটরসাইকেল ও পাজেরো গাড়িটি মহাসড়কে ওঠে। ঐ পাজেরো গাড়িতে ছিলেন হাসনাত ও সারজিস। পরে একটি প্রাইভেটকার মহাসড়কে উঠতেই চট্টগ্রামমুখী একটি মালবাহী ট্রাক গাড়িটির সামনের অংশে ধাক্কা দেয়। এতে কারটির সামনের বাঁ দিকের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেট কারটিতে হাসনাত-সারজিসের কয়েকজন সফরসঙ্গী ছিলেন। তবে ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
ঘটনার পর রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির চালক বাদী হয়ে লোহাগাড়া থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।