বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার হোসেন .. বরিশাল জেলা বাবুগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়েগুলো কোচিং সেন্টারে রুপান্তিত। কোন কোন স্কুলের প্রধান শিক্ষাক নিজেই এই কোচিং বাণিজ্যর পরিচালক। স্কুল টাইমে কোচিং ক্লাসের জন্য বিদ্যালয়ে একটি রুম নির্দিষ্ট করে রেখেছে প্রাথমিকের প্রধানেরা, এর সহযোগীতা করছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিদর্শক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। এদিকে সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কোমলমতি শিশুদের নিয়ে কোচিং সেন্টার করেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক মো: শহিদুল ইসলাম শহিদ নামে এক শিক্ষক।বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় বিদ্যালয়েগুলোতে পাঠদানের সময়ে ক্লাস রুমে চলছে শিক্ষকদের এ অবৈধ ব্যবসা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকল কোচিং বাণিজ্য অবৈধ ঘোষনা থাকলেও শিক্ষা অফিসের ছত্রছায়ায় বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে পাঠদানের সময় শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলার ৯৯নং ধুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে ক্লাস রুমে স্কুল টাইমে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম শহিদ ও ৯১ নং উত্তর বায়লাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমন কর্মকারসহ একাধীক স্কুলে ক্লাস টাইমে চলছে কোচিং বাণিজ্য। স্কুল চলাকালীন সময়ে কোচিং বাণিজ্যর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের আয়ের মূল উৎস। স্কুল চলাকালী সময়ে কোচিং করিলে জেএসসিতে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম শহিদ ও সহকারী শিক্ষক সুমন কর্মকার। সুমন কর্মকারকে সহযোগিতা করেন উত্তর বায়লাখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহে আলম।
স্থানীয়রা জানান, ৯৯নং ধুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বসে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম শহিদ এবং ৯১ নং উত্তর বায়লাখালী বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমন কর্মকার তারা শিক্ষার্থীদের জেএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়ার মিথ্যা আশ্রাস দিয়ে বিদ্যালয়ের ক্লাস রুমে স্কুল টাইমে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে আসলে। তারা বলেন, স্কুল রুমে কোচিং বাণিজ্য করতে রুমের ভাড়া দিতে হয় না, এবং বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় না, তাই তারা স্কুল সময়ে পাঠদান না করিয়ে কোচিং বাণিজ্য করে হাজার হাজার টাকা আয় করছে।
বায়লাখালী স্থানীয়রা বলেন, ১৬ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে ৫শত টাকা করে আদায় করছে সহকারী শিক্ষক সুমন কর্মকার। এবং ধুমচর এলাকার বাসীন্দারা বলেন, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর ৪০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে ৫শত টাকা করে আদায় করছে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম শহিদ, তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি ব্যবদ আদায় করে ১ থেকে ২শত টাকা পাশাপাশি পরীক্ষার ফি দিতে হয় শিক্ষার্থীদের, এমনকি তার পছন্দের গাইড কিনতে বাধ্য করেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বেলা ১১ টার সময় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের এক কক্ষে প্রায় ২০ জন শিশু শিক্ষার্থীকে ক্লাস করছেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম শহিদ। ক্লাস টাইমে ক্লাসে বসে কোচিং সেন্টার চালনোর বিষয় জানতে চাইলে, প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আপনারাও এই দেশে বাস করেন সব কিছু সম্ভব এদেশে। তিনি বলেন, অফিসারদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই আমি বিদ্যালয়ের এক রুমে কোচিং সেন্টার চালাই।
তিনি আরও বলেন, কোচিং বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকতা থেকে শুরু করে জেলা কর্মকর্তারাও জানেন আমি বিদ্যালয় বসে কোচিং করাই। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব তাদের। আমরা তাদের কাছেই জবাব দিবো।
তার পাশে থাকা সহকারী শিক্ষিকা মিনা বলেন, আপনাদের চেয়ে বড় সাংবাদিক আমাদেরও আছে। এই বলে তিনি ০১৭৫৫৫১৫৩০৫ নাম্বারে কল দিয়ে সংবাদকর্মীকে অপর প্রান্ত থেকে ইনডিপেনডেন্ট টিভি আল আমিন সজল নামে পরিচয় দিয়ে বাজে মন্তব্য করে বলেন, আপনারা হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে লিখতে পারেন না কিসের সাংবাদিকতা করেন।
জানাজায়, অপর প্রান্তের সাংবাদিক হলো সহকারী শিক্ষিকা মিনার ফ্রেন্ট। জমি দাতারা অভিযোগ করেন, মিনা শিক্ষিকার ফ্রেন্ট বড় সাংবাদিক, তার ভয় দেখায় এলাকার সবাইকে। আর ওই সাংবাদিকের কারনে স্কুলের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলতে পারে না। তাই আমরা অভিযোগ দিলেও কোন সুফল পাই না বলে জানান তারা।
স্থানীয়রা আরোও বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সময় মতো আসে না, তারা তাদের ইচ্ছা মতো আসনে, যখন তখন স্কুল ছুটি দিয়ে চলে জান। বিদ্যালয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দের কাজের কোন নমুনা নেই। নেই মাল্টিমিডিয়ার জন্য স্কুলের সরকারি দেওয়া ল্যাবটবটিও।
শিক্ষার্থীরা জানান, কোন দিন মাল্টিমিডিয়ার ক্লাস হয়নি তাদের স্কুলে। অভিভাবকরা বলেন, সরকার সব কিছু সংস্কার করছে,সর্ব প্রথম সংস্কার দরকার শিক্ষকদের।
এ ব্যাপারে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও ক্লাস্টার অফিসার (এটিও) খায়রুল নাহারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রোমাঞ্চকে বারবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মোঃ আক্তারুজ্জামান জানান, শিক্ষরা কখনও প্রাইভেট পরাতে পারেন না। তাতে বিদ্যালয়ের ভিতরে বা বাহিরে হউক। ভর্তি ফি ও পরীক্ষার ফি বিষয়ে তিনি বলেন, ওই বিষয়গুলো আসলে কমিটির লোকেরা জানেন বলে ফোন কেটে দেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, বিষয়টি আমি দেখবো’ স্কুলের নাম ঠিকান লিখে আমার ফোনে পাঠিয়ে দিন। বিদ্যালয়ের নাম ঠিকান উপজেলার নিবার্হী অফিসারকে পাঠানো হয়েছে।