সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ অপরাহ্ন
বরিশাল নগরীর ২২নং ওয়ার্ড কাজীপাড়া সড়কে নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনের নাকের ডগায় রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট। অবৈধভাবে ১২-১৫টি দোকান বসিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে ব্যবসা করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। নগরীর বিভিন্ন জায়গায় এমন চিত্র অহরহ থাকলেও জনস্বাস্থ্য ভবনের সামনে এমন চিত্র দেখে হতবাক পথচারী ও ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা দখল করে সরকারের ট্যাক্স ফাঁিক দিয়ে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে। এ রকম অবস্থা চলতে থাকলে সড়কে চলাচল করা কঠিন হয়ে যাবে।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনের সামনে রাস্তা এক পাশে ড্র্রেন নির্মাণের কাজ চলছে উত্তর পাশে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনের দেয়াল এর সাথে সিটি কর্পোরেশনের সড়কের রাস্তা অর্ধেক দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট। এই রাস্তাটিতে অবৈধভাবে ১২ থেকে ১৫ টি খাবার হোটেলসহ চায়ের দোকান রয়েছে। রাস্তাটির দুই-তৃতীয়াংশ অবৈধ দোকানীদের দখলে।
সেখানকার এক দোকানি জানান, ২২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি কর্পোরেশনে পানি শাখার ভাল্ব অপারেটর গিয়াস উদ্দনের কাছ থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা ভাড়া নিয়ে খাবার হোটেলের ব্যবসা করে আসছি। জানতে চাওয়া হয়, পানি ও বিদ্যুৎ কিভাবে পেলেন, তিনি জানান, পাশে পাওয়ার হাউজে চাকুরী করেন দোকান মালিক গিয়াস উদ্দিন তিনিই সব কিছুর লাইন করে দিয়েছেন।
জানাজায়, গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি পাওয়ার হাউজের পাশে থাকায়, ঘরের সামনেই পাওয়ার হাউজ এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় দীর্ঘ বছর ধরে ঘরে বসে চাকুরী করে আসছেন ভাল্ব অপারেটর গিয়াস উদ্দিন।
স্থানীয়রা জানান, গিয়াস উদ্দিনের সহযোগীতায় তার এক ভাইও অবৈধভাবে রাস্তার উপর দোকান বসিয়ে ভাড়া দিয়েছেন। তাদের ভয়ে কেউ মূখ খুলতে সাহস পায় না।
খোঁজনিয়ে জানাজায়, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঝাড়ুদার এর ছেলে ও ২২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ফয়সালও অবৈধভাবে রাস্তা দখল করে দুটি দোকান বসিয়ে ভাড়া দিয়েছেন।
অবৈধ দোকান মালিক শুক্কুর রাস্তা দখল করে ১টি দোকান বসিয়ে ভাড়া দিয়েছেন, মিন্নাত হাসিবে আছে ৪টি দোকান, রুহুলের আছে ১টি পাশাপাশি জহিরুল বাবুর্চিসহ স্থানীয় একাধীক ব্যক্তি অবৈধভাবে রাস্তা উপর দোকান বসিয়ে সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে মাসে হাজার হাজার টাকা পকেট ভরছে সিটি কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে।
সংবাদ প্রকাশে আগ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অবৈধভাবে দোকানদারের বিদ্যুৎ মিটার কিভাবে পেলো জানতে চাইলে, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ওজোপাডিকো-১ বরিশাল এর উপ সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়র সামচুল হক বলেন, আমি নতুন আসছি। তিনি বলেন, তাহলে সড়কে উপরে কিভাবে দোকান নির্মাণ করলো সিটি কর্পোরেশন এর কর্মকর্তাদের জিজ্ঞেস করেন। প্রতিনিধি বলেন, তাদের বিষয়টি তারা ব্যবস্থা নিবেন আপনারা অবৈধ স্থাপনায় কিভাবে মিটার দিলেন। তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য অফিসটা আমি দেখিনি, তবে আপনি যখন বলেছেন বিষয়টি আমি দেখবো।
ফুটপাতে অবৈধ দোকানদারের নামে বিদ্যুৎ মিটার এর বিষয়ে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ওজোপাডিকো-১ বরিশাল এর নিবাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল কুমার স্বর্নকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না আপনি যখন বলেছেন আমি দেখবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিসি সম্পত্তি স্বপন কুমার দাস বলেন, আপনি কাউকে দিয়ে অভিযোগ দেওয়ান, আমি ব্যবস্থা নিবো। প্রতিনিধি বলেন, আমি নিজেই অভিযোগ দিবো।