সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >>শেরপুরে সুমন মিয়া (১৭) নামের এক কলেজছাত্র প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সুমন শেরপুর পৌরসভার কসবা বারাকপাড়া (নিমতলা) এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি শেরপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সদর থানার পুলিশ রোববার (১০ নভেম্বর) রাতে কসবা বারাকপাড়া এলাকার আজিম উদ্দিন ও তার মেয়ে কলেজপড়ুয়া মেয়ে আন্নি আক্তারকে (১৭) গ্রেফতার করেছে। আন্নি আক্তার শেরপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী সুমন মিয়ার সহপাঠী।
এদিকে, অপহরণের ৭ দিন পার হলেও সন্ধান পাওয়া যায়নি সুমনের।
জানা গেছে, গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় কলেজ থেকে পৌরসভার কসবা বারাকপাড়া এলাকার বাড়িতে যাওয়ার পথে শহরের বাগরাকসা কাজীবাড়ি পুকুরপাড় এলাকা থেকে সুমনকে অপহরণ করা হয়।
এর আগে, রোববার রাতে সুমনের বাবা নজরুল ইসলামের দায়ের করা অভিযোগটি সদর থানায় মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় গ্রেফতার বাবা-মেয়েসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর সুমন বাড়ি ফিরে না যাওয়ায় ও অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান (সুমন) না পাওয়ায় সুমনের বাবা নজরুল ইসলাম ওই দিন রাতে সদর থানায় জিডি করেন। পরে অপহরণের ঘটনাটি জানতে পেরে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে আন্নি ও তার বাবাসহ আরো কয়েকজনকে আসামি করে সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। পরে রোববার রাতে অভিযোগটি মামলা হিসেবে সদর থানায় রেকর্ড করা হয়।
সদর থানার ওসি জুবায়দুল আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত বাবা-মেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমন মিয়াকে উদ্ধারে কাজ চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমন মিয়ার কসবা বারাকপাড়া এলাকার বাড়ির পাশে তার সহপাঠী আন্নি আক্তার বাস করেন। একই কলেজে পড়ার সুবাদে আন্নি আক্তার সম্প্রতি সুমনকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সুমন তাতে রাজি না হওয়ায় আন্নি ক্ষুব্ধ হয়ে তার (সুমন) ক্ষতি করার জন্য পেছনে লেগে থাকেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় সুমন মিয়া কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে শহরের বাগরাকসা কাজীবাড়ি পুকুরপাড় এলাকায় আন্নির উপস্থিতিতে আরো ২-৩ জন যুবক জোরপূর্বক সুমনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যান।
এদিকে, সুমনের সন্ধান না পেয়ে তার মা-বাবা, স্থানীয় এলাকাবাসী ও সুমনের কয়েকজন সহপাঠী রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সুমনকে উদ্ধারসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, পুরো ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মুঠোফোন ট্র্যাকিং করে সুমনের সর্বশেষ অবস্থান ময়মনসিংহে ছিল বলে জানা যায়। তবে, বর্তমানে তার ফোনটি বন্ধ রয়েছে। সুমনকে উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।