সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >>ভোলার লালমোহনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে চোরের উপদ্রব বেড়েছে। গত ৩ মাসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়িঘর, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অন্তত অর্ধশত চুরির ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, সবশেষ গত ১৫ অক্টোবর লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের জিএম বাজার এলাকা থেকে এক কৃষকের দুটি গরু চুরি হয় এবং গত ৩ নভেম্বর রাতে বদরপুর ইউনিয়নের কাজিরাবাদ এলাকার আবুল কাশেম মিয়ার বসতঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয় চোরের দল। এছাড়াও গত ৬ নভেম্বর রাতে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী এলাকায় সুমন নামে এক ব্যক্তির বসতঘরে হানা দেয় চোর চোক্র।
চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার সীমান্তবর্তী লর্ড হার্ডিঞ্জ এবং বদরপুর ইউনিয়নে এ ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। চুরি ঠেকাতে রাত জেগে টর্চলাইট এবং বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন এলাকাবাসী।
আবুল কাশেম মিয়া নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, বাড়ির ছাদে গড়া মুরগির খামারের সামগ্রী কেনার জন্য ঘরে ২ লাখ টাকা রেখেছিলাম।
গত ৩ নভেম্বর রাতে ৪-৫ জনের একটি চোরের দল দা-ছেনি নিয়ে জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে বাসার সব কিছু তল্লাশি করে টাকা নিয়ে যায়। ঘটনাটি জানার পর স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। তবে এ ঘটনার কোনো সুরাহা করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, তাই আমি এলাকার প্রত্যেক ঘর থেকে একজন করে পুরুষ সদস্য নিয়ে একটি টিম গঠন করেছি। এই টিমের সদস্যরা মিলে চোর চক্রের হাত থেকে নিজেদের অর্থ-সম্পদ রক্ষা করতে এলাকায় প্রতি রাতে বাঁশের লাঠি ও টর্চলাইট নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।
লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগে প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জের কিছু বখাটে টাকা-পয়সা কামানোর ধান্ধায় লিপ্ত হয়েছে। যার জন্যই এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। আমরা ওসব বখাটের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছি। এছাড়া সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে দিনরাত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের জিএম বাজার এলাকায় গরু চুরির সঙ্গে জড়িত ২ জনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কাজিরাবাদ এলাকায় রাত জেগে যারা পাহারা দিচ্ছেন, তাদেরকে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্কুট, চানাচুর, চিড়া-মুড়িসহ শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। আমরা চোরদের ধরতে এবং উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছি।
আরও পড়ুন