বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানা এলাকায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাজী মোহাম্মদ আলমগীর ওরফে আলম ও মোহাম্মদ জানে আলম। এর মধ্যে আলমগীর পেশায় নৈশপ্রহরী ও জানে আলম শ্রমিক।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) নগরের দুই নম্বর গেট এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরপর একইদিন আদালতে হাজির করা হলে সেখানে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের এডিসি (জনসংযোগ) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ।
হত্যার শিকার যুবকের নাম ইসলাম বিটু। তিনি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ছোট গয়েসপুর এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে। থাকতেন চট্টগ্রাম নগরে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ আগস্ট ভোর সাড়ে ৬টার দিকে চোর ও ছিনতাইকারী সন্দেহে ইসলাম বিটুকে প্রথম ধাওয়া দেওয়া হয়। এরপর চার দফায় চার জায়গায় একাধিক ব্যক্তি মিলে তাকে গণপিটুনি দেয় এবং মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফেলে চলে যায়।
এডিসি কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, নিহতের মায়ের করা মামলার পর তদন্তে নেমে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত বিটুকে প্রথমে চোর সন্দেহে তাড়া করে দুই নম্বর গেট এলাকায় ড্রেনের সামনে গিয়ে আটকান এক নৈশপ্রহরী। এরপর গ্রেফতারকৃত আলমগীর গিয়ে ঐ নৈশপ্রহরীর হাতে লোহার রড তুলে দিয়ে বিটুকে পেটাতে বলেন।
একইদিন দুই নম্বর গেট এলাকার কবরস্থানের পাশ থেকে বিটুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় বিটুর মা বিউটি বেগম বাদী হয়ে খুলশী থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
এরপর দ্বিতীয় দফায় দুই নম্বর গেট এলাকার নার্সারিতে, তৃতীয় দফায় মুরাদপুর এলাকার সড়ক বিভাজকের লোহার অ্যাঙ্গেলের সঙ্গে বেঁধে বিটুকে মারধর করা হয়। ততক্ষণে আলমগীর ও প্রথম প্রহারকারী নৈশপ্রহরীর সঙ্গে আরো কয়েকজন যোগ দেন। যাদের মধ্যে জানে আলমও ছিলেন।
এডিসি বলেন, সর্বশেষ চতুর্থ দফায় বিটুকে বিপ্লব উদ্যানে বেঁধে একাধিকজন মিলে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে সবাই পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নৈশপ্রহরী আলমগীর ও জানে আলমকে গ্রেফতার করা হলেও আরেক নৈশপ্রহরী যিনি প্রথম মারধর করেন তিনি পলাতক রয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান এডিসি কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ।