বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> আদালত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে। ব্যক্তি জীবনে নিঃসন্তান আমুর পালিত মেয়ে সুমাইয়া হোসেন বর্তমানে ঝালকাঠিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। অনেকেরই প্রশ্ন, কে এই সুমাইয়া হোসেন?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, এমন কোনো সেক্টর নেই যেখান থেকে আমু টাকা পেতেন না। সব টাকাই নগদে পৌঁছাত তার কাছে। ভায়রা ফখরুল মজিদ কিরন লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন। শিল্পমন্ত্রী থাকাকালে আমুর এপিএস ছিলেন কিরন। সর্বশেষ সরকারে আমুকে মন্ত্রী করা না হলেও তার সংস্পর্শেই থেকে যান তিনি। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, আমুর পাশাপাশি সদ্য সাবেক সরকারে দায়িত্ব পালন করা শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনেরও এপিএস ছিলেন কিরন।
জানা গেছে, আমির হোসেন আমুর অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন তার ভায়রা ও সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ফখরুল মজিদ কিরন। তিনি আবার সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ূনের ভাই। কিরন তারও এপিএস ছিলেন। আমুর শ্যালিকা মেরী আক্তার ও কিরন দম্পতির মেয়ে সুমাইয়াকে অনেক বছর আগে দত্তক নিয়েছিলেন আমু। এই সুমাইয়া ও কিরনের কাছেই আমুর অবৈধ আয়ের অধিকাংশ গচ্ছিত রাখা। সুমাইয়া বর্তমানে দুবাইয়ে বসবাস করেন। দুবাই প্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি। সেখানে হুন্ডিসহ নানা উপায়ে বিপুল অর্থ পাচার করেছেন আমু। এমন তথ্য জানান তারই ঘনিষ্ঠজন।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে নলছিটি উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমুর সঙ্গে দেখা করতে হলে অনুমতি নিতে হতো কিরনের। উন্নয়নমূলক সব কাজের ভাগ-বাটোয়ারা করতেন তিনি। তার কথার বাইরে বলতে গেলে এক পা চলতেন না আমু। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, কিরন যেন ছিলেন আমুর ছায়া। এই কিরনের মাধ্যমেই নির্বাচনী এলাকা থেকে শত শত কোটি টাকা কামিয়েছেন আমু। যার প্রায় পুরোটাই এখন দুবাইতে তার মেয়ে সুমাইয়ার কাছে আছে বলে ধারণা সবার।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আলোচিত এই কিরনের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। সর্বশেষ শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ুনের আপন ছোট ভাই কিরন তার নিজের এলাকা বাদ দিয়ে ঝালকাঠিতে পড়ে থাকতেন। কেবল সম্পদ ভাণ্ডারের দেখাশোনা আর পার্সেন্টেজ আদায় নয়, নির্বাচনী এলাকায় আমুর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও দেখাশোনা করতেন তিনি।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম বলেন, সাবেক এমপির বাসা থেকে ৫ কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনায় আমরা একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। টাকা জমা আছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।