সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৩ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> নতুন বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপনের পর প্রথম মাসে আব্দুল রাজ্জাকের বিল আসে ৪২ হাজার ৪১০ টাকা। এরপর সেই বিলের কাগজ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ধর্ণা দিতে শুরু করেন আব্দুল রাজ্জাক। এ নিয়ে গত ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আব্দুল রাজ্জাক চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় নতুন দোতলা ভবন নির্মাণের পর সেখানে বসবাস শুরু করেছে তার পরিবার।
একপর্যায়ে মিটারটি পরিবর্তন করে অন্য মিটার স্থাপন করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এরপরেও যেন রেহাই মেলেনি আব্দুল রাজ্জাকের। এবার সেই বিল পরিশোধের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃক চাপ প্রয়োগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে বিষয়টি সত্য নয় বলে দাবি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের। মিটারটিতে কারিগরি ত্রুটি রয়েছে কিনা সেটি যাচাইয়ের পর বিল পরিশোধের বিষয় উঠে আসবে বলে জানান তারা।
আব্দুল রাজ্জাক বলেন, মিটার পরিবর্তনের পর থেকে আমাকে সেই ৪২ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অন্যথায় আবাসিক সুবিধা দেওয়া হবে না বলে জানানো হচ্ছে। এটি তাদের ভুলের কারণে হয়েছে বলে তারা স্বীকার করেছেন। কিন্তু এরপরও আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি এখন আবার ইউএনও মহোদয়ের কাছে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে আমি একটা সুরাহা চাই।
আব্দুল রাজ্জাক বলেন, নতুন মিটার স্থাপনের পর প্রথম মাসে ৪২ হাজার ৪১০ টাকার বিল হাতে পেয়ে আমি অবাক হই। আমার ভবনের যখন নির্মাণকাজ চলছিল, তখন আমাকে মিটারটি স্থাপন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। সেটি নির্মাণ মিটার হওয়ায় মাসে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত বিল আসতে পারে জানানো হয়েছিল আমাকে। পরে নির্মাণকাজ শেষ হলে আবাসিক মিটার স্থাপন করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ৪২ হাজার টাকার বিল দেখে আমি বারবার অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে শুরু করি। শুরুর দিকে তারা আমাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে একপর্যায়ে তারা মিটারটি পরিবর্তন করে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের হাটহাজারী জোনাল অফিসের ডিজিএম মাহবুবুল আলম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা লোক পাঠিয়ে মিটারটি পরিবর্তন করে দিয়েছি। এখন আর সমস্যা হওয়ার কথা না।
বিল পরিশোধে চাপের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করিনি। চাপ প্রয়োগের বিষয়টি সত্য নয়। মিটারটিতে কোনো ধরনের ত্রুটি আছে কিনা সেটি পরীক্ষার জন্য দিয়েছি। পরীক্ষা শেষে বলা যাবে। পরীক্ষায় যদি ত্রুটি ধরা না পড়ে, তাহলে অবশ্যই তিনি সেই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন; সেক্ষেত্রে বিলটি পরিশোধ করতে হবে।
ত্রুটি ধরা পড়লে ব্যবস্থা কি হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুল আলম বলেন, সেটি পরবর্তীতে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব।
এদিকে, এ ব্যাপারে গত ২৯ অক্টোবর হাটহাজারীর ইউএনও এবিএম মশিউজ্জামানের বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী আব্দুল রাজ্জাক। মুঠোফোনে সংযোগ না পাওয়ায় ইউএনও’র বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।