সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার হোসেন .. বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে দশম শ্রেণীতে মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। সমমান করা হয় ও সমমানের পরীক্ষায় বাকেরগঞ্জ উপজেলা ১নং চরামদ্দি ইউনিয়নের পূর্ব বাদলপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৩ জন শিক্ষক আছেন। মাদ্রাসায় টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেন ৩ শিক্ষার্থী। মাদ্রাসাটিতে দাখিল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ জন।
উপস্থিত শিক্ষার্থীর তালিকায়, ২য় শ্রেনীতে ২ জন, ৭তম শ্রেনীতে ২ জন ও ৮ম শ্রেনীতে ৪ জন শিক্ষার্থী পাওয়া জায়।
পরীক্ষা অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ৩ জন হলো, মাজেদ হাওলাদারের ছেলে কামরুল হাসান, জালাল হাওলাদারের ছেলে খলিলুর রহমান, জাহিদ মজুমদারের ছেলে সোহাগ হোসেন।
প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত সহ সুপার হানিফ তালকদার সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১নং চরামদ্দি ইউনিয়ন এর বাদলপাড়া গ্রামের পূর্ব বাদলপাড়ায় মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পর ১৯৮৮ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে সহকারী সুপারসহ ১৩ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী রয়েছেন। গত বছর এই বিদ্যালয় থেকে ১৩ জন শিক্ষার্থী দাখিল পাস করেছিল।
গত (৩১ আক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা জায়, মাদ্রাসাটিতে দাখিল টেস্ট পরীক্ষা দিচ্ছে তিন জন শিক্ষাথীর্, প্রতি জন পরীক্ষার্থী গাইড দেখে পরীক্ষা দিচ্ছে ও সাথে একটি করে এনড্রো মোবাইল সেট।
জানতে চাওয়া হওয়া তোমরা কোন ক্লাসের ছাত্র, তারা বলেন আমরা এবার দাখিল পরীক্ষার্থী, বর্তমানে আমরা টেস্ট পরীক্ষা দিচ্ছি। গাইড দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ও পরীক্ষার সময় সাথে মোবাইল রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, শিক্ষকরা তো কিছু বলে না।
পাশের রুমে গিয়ে দেখা জায় ৭ জন শিক্ষক বসে আলাপ করছে, তাদের কাছে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, সহকারী সুপার হানিফ তালুকদার স্যার বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে দেখা করতে গিয়েছে। ফোন দেওয়া হয় নিবার্হী অফিসারকে তিনি বলেন, আমি বাহিরে আছি এবং ব্যস্ত আছি।
দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন মাদ্রাসায় এখন দাখিল টেস্ট পরীক্ষ চলে,তাই ছাত্র ছাত্রী কম। পরীক্ষার্থীদের দায়িত্বে কোন শিক্ষক উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন,আহাদুল ইসলাম। দায়িত্বে থাকা আহাদুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হয় আপনি এই রুমে কি করেন তিনি বলেন, এখন আমারা দায়িত্ব নেই আমি সাড়ে দশটা থেকে সাড়ে এগারোটা পযর্ন্ত ছিলাম এখন কে! আমি জানি না। পরীক্ষার্থীর হলে কার উিডটি তাও জানেন না উপস্থিত শিক্ষকরা
। সামাজীক বিজ্ঞানের শিক্ষক আঃ ছালাম বলেন, সহকারী সুপার অনুপস্থিতিতে আমি দায়িত্বে আছি, জানতে চাওয়া হয়, পরীক্ষার্থীরা গাইড দেখে পরীক্ষা দিচ্ছে ও সাথে মোবাইল ফোন নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে আপনাদের করনিও কি! তখন তিনি বলেন, আসলে দায়িত্ব সবাইর কিন্তু সবাই অফিস কক্ষে বসে আছে কিসের জন্য তাও আমি জানিনা। শিক্ষকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ১৩ জন শিক্ষক আছি আজ ১১ জন উপস্থিত হয়েছি। এগারো জন শিক্ষক এখন কোথায় দেখতে চাইলে মাদ্রাসার দপ্তরী ইব্রাহীম সংবাদকর্মীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তা দেখার আপনারা কে! আমাদের অফিসার আছে তারা দেখবে ও উপজেলা ইউনো দেখবো। তিনি আরো বলেন, ইউনো স্যারে আমাদের বলছে সাংবাদিক আসলে বেধেঁ রাখতে। দপ্তরীর কথা শিক্ষকরা প্রতিবাদ না করে তারা বলেন, আসলে অনেক ভুয়া সাংবাদিক আসে তাই ও এই কথা গুলো বলছে। তবে এই কথাগুলো ওর বলা ঠিক হয়নি বলে সাংবাদিকদের শান্তনা দেন উপস্থিত শিক্ষকরা।
স্থানীয়রা বলছেন, মাদ্রাসাটি প্রতিদিন খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। শিক্ষক-কর্মচারীরা গল্পগুজব করে সময় কাটিয়ে বাড়িতে চলে যান। তারা আরো বলেন, খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে অনেক শিক্ষক চলে জায়,আবার কেউ অগ্রীম স্বাক্ষর দিয়ে ছুটিতে থাকেন। তারা বলেন, কেউ তো দেখতে আসে না মাদ্রাসাটি কেমন চলে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর স্কুলে পরীক্ষার্থী মাত্র ৭ জন। অন্য অন্য ক্লাসেও নেই কোন শিক্ষার্থী এর মধ্যে ৩ জন পরীক্ষার্থী তারাও গাইড মেলে পরীক্ষা দিচ্ছে বিষয়টি দুঃখজনক। এই মাদ্রাসায় শিক্ষকরা প্রতিদিন আসে কি না, ঠিকমতো ক্লাস নেয় কি না সেটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেখা প্রয়োজন।
মাদ্রাসার সহকারী সুপার হানিফ তালুকদার বলেন, আমি বেলা ১১ টায় বাকেরগঞ্জ অফিসের কাজে গিয়েছি। শিক্ষক নেছার উদ্দিন আহম্মেদ, মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, মো: রবিউল ইসলাম ছুটিতে আছেন। জানতে চাওয়া হয় তের জন শিক্ষকের মধ্যে ৩ জন ছুঠিতে থাকলেও বাকি ১০ জন কোথায়! তিনি বলেন, তাও তো আমি জানিনা। তিনি বলেন আমার মাদ্রাসায় ২৫ জন এবার পরীক্ষার্থী, টেস্ট পরীক্ষ কয়জনে দিচ্ছে! তিনি বলেন, টেস্ট পরীক্ষা দিতে হবে এমন কোন বাদ্যবাধকতা নেই। টেস্টা পরীক্ষা ছাড়া কিভাবে এসএসসি দাখিল পরীক্ষা দিবে! তিনি বলেন, তা পারা জায়। আমরা সব সময়ই অন্য মাদ্রাসা থেকে আসা ছাত্রদের আমাদের মাদ্রাসা থেকে এসএসসি দাখিল পরীক্ষার তালিকা দিয়ে তাদের পরীক্ষা দেওয়াই বলে তিনি জানান। তাহাতে তাদের বা আমাদের প্রতিষ্ঠানের কেউ টেস্ট পরীক্ষা না দিলেও বোর্ড দাখিল পরীক্ষা দিতে পারবে। টেস্ট পরীক্ষার্থীরা গাইড দেখে পরীক্ষা দেয়াসহ মোবাইল সাথে নিয়ে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা অনিয়ম এটা ঠিক না।
উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা তপন কুমার দাসকে একাধিক বার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অফিস সূত্রে জানাজায়, তিনি বেশিভাগ সময় ছুটিতে থাকেন। এবং তিনি অপরিচিত নাম্বার দেখলে কল রিসিভ করেন না বলে জানান তারা।
মাধ্যমিক একাডেমিক সুপার ভাইজার মোঃ এনামুল হক জানান, আসলে উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার হলো সভাপতি তারা দুজনেই বিষয়টি দেখেন। তিনি বলেন, তবে আমি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।
জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, মাত্র তিন জনে টেস্ট পরীক্ষা দেয় বিষয়টি দুঃখজনক। তবে সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে বলে জানান তিনি। তিনি সংবাদকর্মীকে লাইনে রেখে বাকেরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে একাধিক বার কল দিলেও তার ফোনও রিসিভ করেনি ওই কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, আপনি অভিযোগ দেন বিষয়টি আমি দেখবো।