সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
ময়মনসিংহের নান্দাইলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে নরসুন্দা নদী। আর এই নদীকে কেন্দ্র করে পাথর ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। এতে ব্যবসা চাঙা হলেও ক্ষতি হচ্ছে নদীটির। কারণ সিলেট, সুনামগঞ্জ ও ছাতকসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় নৌকায় করে নদীপথে পাথরগুলো এনে নদীর চরে রাখতে রাখতে নদীর অনেকটা অংশেও পাথর রাখা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই ভাঙা হচ্ছে পাথর। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নামমাত্র ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে নদীর জায়গা দখল করে অবাধে চলছে পাথরের রমরমা ব্যবসা। এতে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব।
স্থানীয় আনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই ক্রাশিং মেশিনের মাধ্যমে পাথর ভাঙা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, তেমনি শব্দ দূষণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এলাকাবাসী। এছাড়া পাথরের ধূলিকণা বাতাসে উড়ে মানুষের চোখে-মুখে পড়ছে। ব্যবসার নামে নদীর জায়গাও প্রকাশ্যে দখল করা হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে নদীটিকে দখলমুক্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়রা জানান, নদীপথে বিপুল পরিমাণ পাথর এনে উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের তারেরঘাট বাজারে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। সেই পাথর নরসুন্দা নদীর চরসহ নদীর কিনারায় রাখা হয়। কিনারায় রাখতে রাখতে দীর্ঘ সময়ে নদীর একটি অংশ এরমধ্যে দখল হয়ে গেছে। পাথর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে নদীটির চর দখলের মহোৎসব চলছে। ব্যবসায়ীদের বললেও তারা সাধারণ মানুষের কথায় কর্ণপাত করে না।
নাজিম মিয়া বলেন, নদীতে পাথর স্তূপ করে রাখায় পানিপ্রবাহের পথ সংকুচিত হয়েছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই প্লাবিত হয় নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা। নদী দখলমুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও ফলাফল শূন্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পাথর ব্যবসায়ী বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়াই ভাঙা হচ্ছে পাথর। সরকারি ইজারা ডাক হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন এসবের বিষয়ে অবগত আছে।
উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, লাখ লাখ ঘনফুট পাথর স্তূপ করে রাখা হয়। পাথরের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা নদীর অংশেও রেখে দিচ্ছে। তবে এগুলো সরানো হবে। এজন্য সময় প্রয়োজন।
স্থানীয় মুসুল্লি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইফতেখার উদ্দিন ভূঁইয়া বিপ্লব বলেন, নদী দখল করে ব্যবসা করা হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। পরিবেশ অধিদফতরের কোনো অনুমোদনও নেই। তবে প্রয়োজন প্রশাসনের তদারকি।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুণ কৃষ্ণ পাল বলেন, নদীতে পাথর রাখার জন্য পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা সেটা করতে পারেন না। পাথর ভাঙার জন্য যে ক্রাশার মেশিন ব্যবহার করছে, তা ব্যবহার করতে হলে পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, নদীগুলো নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হবে। দখলমুক্ত করে পর্যায়ক্রমে নদীগুলোকে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।