অনুসন্ধান ২৪ >> কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার শিবনাথ সাহার বাজার সংলগ্ন কুড়িখাঁই নদীর ওপর নির্মিত প্রাচীন ব্রিজটির মাঝখানে ভেঙে গর্ত হয়েছে।
জানা যায়, গত এক দশক ধরে নির্বাচনের আগে এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ ব্রিজটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পরে আর কেউ খোঁজ রাখে না। ব্রিজটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যবর্তী হওয়ায় দায় নিচ্ছে না কেউ। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে বোয়ালিয়া, নামা বোয়ালিয়া, তেলিচারা, কাহেতেরটেকী, ভাংনাদী, চারিয়া, দড়িচারিয়া, মাগুরা, কুড়িখাঁই, চাতল, মুমুরদিয়া, জোয়ারিয়া ও পিপুলিয়াসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে থাকে। ব্রিজের পাশেই রয়েছে একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার।
ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সবচেয়ে বেশি। ব্রিজের পাশেই রয়েছে শাহ শামসুদ্দিন সুলতান বোখারী (রহ.) মাজার। প্রতি বছরেই এ মাজারে ওরস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী এক বিশাল মেলা জমে। চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও মেলার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে এই ব্রিজ দিয়ে।
স্থানীয়রা জানান, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র না থাকায় কারো কাছে বলার জায়গা পাচ্ছেন না। যেন দেখার কেই নেই। ব্রিজটি রেলিং না থাকায় বেশ কয়েকবার নববধূ নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক চলাচলের উপযোগীসহ স্থায়ীভাবে পুনঃনির্মাণ বা একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তারা। ব্রিজের দুই পাশের রেলিং নেই। খসে পড়েছে পিলারের আস্তরণ ও ইট। ফলে ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজ পারাপার হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। এতে যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
শিবনাথ সাহার বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বড় মালবাহী গাড়ি দিয়ে মালামাল আনতে পারছি না। লেবার দিয়ে মালামাল বাজারে আনতে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। নির্বাচনের আগে অনেকেই এসে বলে যায় সেতুটি পুনরায় নির্মাণ করবে। কিন্তু নির্বাচন চলে গেলে আর কেউ তাকিয়েও দেখে না।
অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ আলী জানান, প্রতিদিন এই ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। একদিক থেকে গাড়ি নিয়ে এলে অপর প্রান্তের গাড়ি পারাপারে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। রাতে এ ব্রিজে পারাপারে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কটিয়াদী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অনতু বল জানান, সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।