রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> ফরিদপুরে টানা বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে মরিচের ক্ষেত। এতে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দামের ‘ঝাল’। বিভিন্ন খুচরা বাজারে ৪৮০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি।
ফরিদপুর শহরের হাজী শরিয়ত উল্লাহ বাজারের ব্যবসায়ী চুন্নু মণ্ডল জানান, স্থানীয় তাম্বুলখানা বাজারের মরিচ সাড়ে চারশ’ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মরিচের সরবরাহ কম, তাই দাম বেড়েছে।
কৃষি অফিস বলছে, এখন মরিচ চাষের মৌসুম না হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম। এর মধ্যে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে মরিচ ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে দামও বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম ও আমদানি বন্ধ থাকায় মরিচের দাম বেড়েছে।
ব্যবসায়ী সোহেল রানা জানান, বাজারে মরিচের আমদানি তুলনামূলক অনেক কম।
শহরের অম্বিকাপুর বাজারে খুচরা ব্যবসায়ী মো. আবুল শেখ জানান, কেজি প্রতি খুচরা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা। সকালে আড়ত থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে মরিচ কিনে বাজারে ১২০ টাকা পোয়া করে বিক্রি করেছেন।
মধুখালী উপজেলার মরিচ চাষি শিলা রায় জানান, এ বছর মরিচ চাষ করে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। প্রথমে খরায় গাছের ক্ষতি, তার পরে বৃষ্টিতে ফলনের ক্ষতি। ক্ষেতে এখন কোনো মরিচ নেই। মরিচের ক্ষেতে কুমড়ার চাষ করেছি।
ক্রেতারা জানান, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে কাঁচা মরিচের দাম এভাবে বাড়লে আমরা সংসার চালাবো কীভাবে? রান্না করতে তো মরিচ লাগবেই। এখন কাঁচা মরিচের দামে হাঁপিয়ে উঠছি। তবে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সুষ্ঠু তদারকির অভাবে পণ্যের দাম বাড়ছে।
তারা আরও জানান, গত সপ্তাহে মরিচের দাম কম ছিল। এক সপ্তাহেই দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এটা কীভাবে হয়? দাম বাড়তে পারে, কিন্তু সেটা যদি দ্বিগুণ হয়, তাহলে বুঝতে হবে সিন্ডিকেটের কারণে এটা হয়েছে।
এদিকে, ফরিদপুর জেলার মধ্যে মরিচ উৎপাদনে বিখ্যাত মধুখালী উপজেলা। মধুখালী কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ আবাদ হয়েছে। এবার গত বছরের চেয়ে ২০ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে মরিচ।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, মধুখালী উপজেলায় যে মরিচ চাষ হয়, তা এক মৌসুমি মসলা জাতীয় ফসল। এখন মরিচের মৌসুম প্রায় শেষ। কৃষকরা এখন মরিচ ক্ষেত্রে কুমড়া, শসা চাষ করছেন। এ এলাকা উঁচু হওয়ায় কৃষকরা মরিচ চাষ করে থাকেন। জৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে এর ফলন পাওয়া যায়। বর্ষা মৌসুমে এর ভালো ফলন পাওয়া গেলেও এ বছর ভালো ফলন হয়নি।
ফরিদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ বলেন, আমরা বেশ কয়েকদিন ধরে ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। তবে বাজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণে কাল (শনিবার) থেকেই নিয়মিত মনিটরিং শুরু করা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, এখন কাঁচা মরিচের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। এবার ফলন কম এ জন্য বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহও কম। ক্ষেতে যে মরিচ আছে তা গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার কারণে বাজারে মরিচের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরো পড়ুন