শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন
আনোয়ার হোসেন .. গত ৮ সেপ্টেম্বর নিজের কাজের অংশ হিসেবে এবং কিছুটা ব্যক্তিগত উৎসাহের কারণে বরিশাল সদর উপজেলা ৫নং চরমোনাই ইউনিয়নের নলচর গ্রামের ১২২ নং প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে এলাম।
সরেজমিনে দেখা যায়, রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টায় ১২২ নং নলচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারের কোনো শিক্ষক নেই। উড়ছে না জাতীয় পতাকা। বিদ্যালয়ের প্রধান অনুপস্থিত, বাকি শিক্ষরা বেলা সাড়ে ১২ জাতীয় পতাকা নামিয়ে নির্ধারিত সময়ে আগেই সরকারী নিময় তোয়াক্কা না করে স্কুল ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে যান।
উপস্থিত স্থানীয় এক প্রবীন বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলা ১০ টায় সপ্তাহে আসেন দুই দিন, বাড়ি ফেরেন সাড়ে ১২ টায়। প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম দেখে ক্লাস নেয়ার বিষয়ে বাকি শিক্ষকদের আগ্রহ নেই। তাড়াও নিজেদের মনমতো বিদ্যালয়ে আসেন আবার ইচ্ছামতো চলে যান। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়। লেখাপড়ায় আগ্রহী থাকলেও শিক্ষকদের অবহেলায় মনোযোগ হারাচ্ছে শিশুরা।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নষ্ট করেছে প্রধান শিক্ষক তাকে কিছু বলা যায় না, সে বরিশাল সিটির বাসিন্দা। এমনও কথা বলেন শিক্ষক, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে কে কি করবে! আমি বহু শিক্ষকের অভিযোগ সমাধান করেছে। কারন আমাকে এই এলাকার কোন লোক কিছু করিতে পারিবে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়টি আগে ভালোই ছিলো প্রধান শিক্ষক রিপনের কারনে স্কুলটি ধ্বংশের পথে শিশুরাও ছাড়ছেন স্কুল। প্রধান শিক্ষকের অবহেলার কারনে অন্য অন্য শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেন না। তারা যদি গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াতো তাহলে ফলাফল আরও ভালো হতো। ওই এলাকার শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা বলেন, প্রধান শিক্ষকে কারনে সহকারি শিক্ষকরা ঠিক মতো ক্লাস নেয় না! এমন ঘটনার কারনে আমরা বহু ধুরে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের পাঠাই।
১২২ নং নলচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারটি ছিল অপরিছন্ন, কোন পরিবেশ ছিলো না বিদ্যালয়ে, যে কেউ দেখে মনে করবে কোনো গোয়ালঘর। বিদ্যালয়টিতে রাখা আছে পাঠ গাছ, যেখানে সেখানে পরে আছে খরকুটা, পচেঁ বের হচ্ছে গন্ধ। সিঁড়িটির দিকে তাকালে মনে হয় বিদ্যালয় নির্মাণ শেষে আর ব্যবহার করা হয়নি ওই সিড়িটি। বিদ্যালয়ের ভিতরে বাধাঁ আছে ছাগল। সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর নিয়ম থাকলেও বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে আসতে আসতে বাজায় ১০টা। বিদ্যালয়ে এসে কোনো রকমে দু-একটি ক্লাস নেন। দুপুর ১২টা বাজতেই বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে ১টার খেয়া পার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল সদর উপজেলা চরমোনাই ইউনিয়নের ১২২ নং নলচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারের শিক্ষদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় লোকেরা জানান, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে আসেন তাদের মনগড়া ইচ্ছায়, চলেও জায় তাদের ইচ্ছায়। তারা বলেন, কিছু দিন আগে প্রধান শিক্ষক রিপনের সাথে এখানের লোকদের সাথে প্রায় মারামারির পালায়। এমনকি স্থানীয় লোকেরা প্রধান শিক্ষক রিপনকে খালে নামিয়ে চুবাবো বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তারা বলেন, শিক্ষকরা ঠিক মতো বিদ্যালয়ে না আসার কারনে, প্রায়ই শিক্ষকদের সাথে স্থানীয় লোকদের মাঝে কথার কাটাকাটি হয়। স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের দায়িত্বরত শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে কে কয়দিন আসবে তার রুটিন করে নিয়েছে। এক এক জন শিক্ষক সপ্তাহে দু দিন বিদ্যালয়ে আসেন, এভাবেই তারা নিজেদের মধ্যে দিনকাল ভাগ করে নিয়েছেন।
তারা আরও বলেন, বিদ্যালয়টি অভিভাবকহীন কারন এতো অনিয়ম দেখার তো কোন লোক নেই, তাই তারা তাদের মতো করে ক্লাস করেন। স্থানীয় লোকেদের অভিযোগ, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবাই বরিশাল থেকে ৯টায় খেয়া পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসেন ১০ টায়, ১টায় খেয়ায় পার হতে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন সাড়ে ১২টায়। বেশ কয়েদিন স্থানীয় লোকদের সাথে শিক্ষকদের ঝামেলা হয়, এতে শিক্ষক রিপন বলেন, আপনারা যতো অভিযোগ দেন আমাদের কিছুই হবে না। সরকারি চাকরি নিতে যেমন কঠিন যেতেও কঠিন। তাই আমরা আপনাদের ভয় পাওয়া কিছু নেই আমাদের। তবে বিদ্যালয়ের দিকে তাকালে মনে হয় সরকারি কোন বরাদ্দ পায় না ওই বিদ্যালয়টিতে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের আট বারাদ্দের অর্থ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন করলে জমি দাতারা বলেন, অসাধু কতিপয় কর্মকর্তা, স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) ও প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা।
অন্যদিকে যারা মনিটরিং করছেন তাদেরও অনেকে এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ১২২ নং নলচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারের মিলছে না সরকারের দেওয়া প্রকল্পের সুফল। বরাদ্দর বিষয়ে স্কুল কমিটির সভাপতি রিপন ব্যপারী বলেন, স্কুলটি ধ্বংশ করেছে প্রধান শিক্ষক রিপন। সব বরাদ্দ নিজেই আত্মসাত করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কোন উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের টাকা অফিসের কর্মকর্তাদে যোগসাজে ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছেন।
সভাপতি বলেন, ব্যতিক্রম ১২২ নং নলচর স: প্রা: বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারটি, এখানে মানা হয়না সরকারি কোন নিয়ম কানুন। শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে আসেন, ছুটিও দেন ইচ্ছেমতো। বিদ্যালয়টিতে চার জন শিক্ষক তারা ক্লাসের আসার রুটিন করে নিয়েছে, কে কবে আসবে সেই অনুসারে তার আসিয়া একটি বা দুটি বিষয়ের ক্লাস নিয়ে ১ টার খেয়াপার হয়ে বাড়ি চলে যান। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে শিশুরা। সেই সঙ্গে দিন দিন বেসরকারি বিদ্যালয়ের দিকে ঝুঁকছে ওই এলাকার শিশুরা।
সময়ের আগেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছুটি দেয়ার কারণ জানতে চাইলে ১২২ নং নলচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টারের প্রধান শিক্ষক রিপন হাওলাদার বলেন, বিদ্যালয় এত তাড়াতাড়ি ছুটি হওয়ার কথা নয়। আমি ট্রেনিংয়ে আছি খোঁজখবর নিয়ে জানাচ্ছি। নলচর বিদ্যালয়ে স্কুলে ক্ষুদ্র ও বড়ো মেরামত কাজ, বিদ্যালয়ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ), রুটিন মেইনটেন্যান্স, প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস সজ্জিতকরণ, ওয়াসব্লক রক্ষণাবেক্ষণ, বই বিতরণ, শোক দিবস পালন, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান এবং আনুষঙ্গিকসহ আট ধরনের বরাদ্দ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক রিপন বলেন, আপনি তো আমরা পরিচিত ভাই ব্রাদার। আর এখন আমি ৬ মাসের ট্রেনিংয়ে আছি, আমি আপনার সাথে দেখা করবো। এই বিষয়ে কোন সংবাদ প্রকাশ করিবেন না বলে অনুরোধ জানান তিনি।
জমি দাতারা বলছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সরকার বিভিন্ন নামের প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। সরকারের সদিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু অসাধু শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক, অফিসকে ম্যানেজ করে সরকারে বরাদ্দ আত্মসাৎ করেছেন।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের আগে বিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়ারসহ বরাদ্দ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল উপজেলা শিক্ষা ফয়সাল জামিল বলেন, অভিভাবগের মধ্য কেউ অভিযোগ দিলে। আমি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো। সংবাদকর্মী বলেন, গ্রাম গায়ের লোক কে অভিযোগ দিবে, আপনার পরিদর্শনের লোক আছে তাদের মাধ্যেমে দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেন। শিক্ষ অফিসার বলেন, তা আমি করবো।