রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>> প্রথমে উন্নত জীবনের প্রলোভন আর উচ্চ বেতনের কথা বলে দেওয়া হয় ভুয়া চুক্তিপত্র। এরপর ওমরা ভিসায় বিদেশে পাড়ি। তবে কয়েকটি দেশ ঘুরেও মেলেনা কোন কাজ। এমন শত শত বাংলাদেশি সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে মানবপাচারের শিকার হচ্ছেন।
তবে যেতে হবে সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের পর। এরপরেই যত বিপত্তি। ওমরাহ তো দূরে, সৌদিতে একদিন বন্দি রেখে পাঠানো হয় ওমানে। এরপর কুয়েত হয়ে তাদের নেয়া হয় কিরগিজস্থানে। সেখানে পৌঁছালেও এখনো মেলেনি প্রতিশ্রুত কাজ।
সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে গিয়ে আর ফিরেননি বাংলাদেশিরা। গেলো বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এভাবেই নিখোঁজ এমন ৫৬৮ বাংলাদেশি। প্রশ্ন হলো তারা যাচ্ছেন কোথায়? সেই উত্তর খুঁজতে গিয়ে এর পরিচয় হয় পঞ্চগড়ের আলমগীরের সাথে। তার ভাই আশরাফুল ও এক প্রতিবেশী কাজিম দু’মাস আগে সহায় সম্বল বিক্রি করে রওনা দেন কিরগিজস্তানের পথে। বেতন পাবেন ৫০ হাজার টাকা।
আলমগীর বলেন, এজেন্সির লোকজন জানায় কোম্পানিতে কাজ করবে সাড়ে ৪শ’ ডলার বেতন দেবে। তারা বলে ওখানে আমাদের লোক আছে ওই দেশে পৌঁছানোর পর সেখানে তাদের লোক আছে তারা কোম্পানিতে নিয়ে যাবে। পরে এজেন্সির লোকজন কোম্পানিতে না নিয়ে ইটের ভাটায় নিয়ে গেছে। ওরা দুই বেলা রুটি খেতে দেয়, আর একবেলা ভাত খেতে দেয়। ওই দেশে কি রুটি দেয় সেটা খেয়ে থাকাও যায় না।
কার যোগসাজশে ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে কিরগিজস্থানে হচ্ছে মানব পাচার? বিএমইটির বহির্গমন শাখায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও মেলেনি উত্তর। বিদেশে ভুয়া চুক্তিপত্রের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করলেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।
কীভাবে ওমরা ভিসায় শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে বিদেশে? এই দুই ভুক্তভোগীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানীতে এনএন ট্রাভেল এজেন্সিতে যায়। প্রতিষ্ঠানটির বিদেশে কর্মী পাঠানোর নেই কোন অনুমোদন। তবে এ নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক নাসরিন আক্তার।
তিনি বলেন, আমাদের লেবার উইংয়ের লোকজন এটাস্টেটের আগে খোঁজ-খবর নেয়ার চেষ্টা করে। খোঁজ নিয়েই কিন্তু এটাস্টেশন করা হয়। তবে জাল এটাস্টেশন ও জাল সার্টিফিকেটের বিষয়ে নিয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলছেন, এসব ঘটনার পেছনে ট্রাভেল ও রিক্রুটিং এজেন্সির রয়েছে এক ধরণের আতাত।
ওমরাহ ভিসায় কারা যাচ্ছেন সৌদি আরবে সেই তালিকা নেই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছেও। ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, এই বিষয়গুলো আমাদের নলেজে নেই। আমার মনে হয় এখন যারা সৌদি যাচ্ছে যেভাবে যাচ্ছে এটা এজিন্সির সাথে কোন সম্পর্ক নেই, আমাদের সাথেও সেই সম্পর্ক নেই।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমদ বলেন, এখন এই যোগসাজশ যদি ভেঙে না দেয় হয় তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না।