রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৩ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>> ‘এই ভোটের কতা কইয়্যা দিছেন। আনারস আছে। সালাম করি, ডান হাতে টাকাডা লই।’ নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে টাকা বিতরণের একটি ভিডিও সমকালের হাতে এসেছে। সেখানে এভাবেই আনারস প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল বাকিরকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায় করা হচ্ছে। আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে নরসিংদী সদরে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
লুঙ্গি ও টাকা বিলির ভিডিওর ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গত শুক্রবার নরসিংদীর মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ভগিরথপুর হাজী লালমিয়া মোল্লা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে টাকা বিলির ঘটনাটি ঘটে। আনারস প্রতীকের প্রার্থী বাকিরের পক্ষে টাকা বিতরণ করছিলেন আব্দুল মোমেন মোল্লা। তাঁর মাথায় ছিল কালো ক্যাপ, পরনে সাদা গেঞ্জি ও ধূসর রঙের ট্রাউজার। এ সময় মোমেনের পেছনে বসা ছিলেন বাকিরের ভাই রফিকুল ইসলাম। তাঁর পরনে সাদা শার্ট ও চোখে চশমা। রফিকুলের পাশে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি।
ওই ফুটেজে দেখা যায়, খোলা আকাশের নিচে টেবিল-চেয়ার পেতে বসে আছেন দু’জন। পাশে আরেকজন দাঁড়িয়ে রয়েছেন। দীর্ঘ লাইন থেকে এক এক করে এগিয়ে আসছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। হাতে হাতে দেওয়া হচ্ছে নতুন টাকার নোট। আর প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে একটি লুঙ্গিও। ভোটের মাঠে টাকা ও লুঙ্গি বিতরণের সময় বলতে শোনা গেল– ‘বাড়ি গিয়া আনারসের কতা মা-বোনগো কইবেন।’ মাইকে মাঝে মাঝে ঘোষণা করা হচ্ছে– ‘সবাই সালাম করি, ডান হাতে টাকাডা লই।’ যারা লুঙ্গি ও টাকা নিতে এসেছেন মাঝে মাঝে তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-মশকরা করতে দেখা গেল বিতরণকারীদের। লাইনে থাকা কয়েকজনকে তারা বলছিলেন– ‘এই তোর কি লুঙ্গি লাগব।’ যারা নতুন লুঙ্গি ও টাকা নিচ্ছিলেন তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়– ‘ভোটের কতা সবাইরে কইয়্যা দিছেন।’ এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কেউ কেউ বলছিলেন– ‘আনারসের কতা কইয়্যা দিছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাকিরের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার দিন ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচারে ভগিরথপুর গিয়েছিলাম। মোমেন মোল্লা আমাদের আত্মীয়। আমার ভাইকে তিনি ভালোবাসেন। তাই ভোটারদের কিছু টাকা ও লুঙ্গি .দিয়েছেন। পাভেল ফাউন্ডেশনের ব্যানারে আগে থেকেও মানুষকে তারা সহযোগিতা করে আসছে।’
মোমেন মোল্লার পরিচয় জানা গেল। তিনি নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট। আর রফিকুল চেম্বারের পরিচালক। জাহাঙ্গীর ভগিরথপুর হাজী লালমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নরসিংদী সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন চারজন। তারা হলেন– কাপ-পিরিচ প্রতীক নিয়ে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, আনারস প্রতীক নিয়ে নরসিংদী সদর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাকির, মোটরসাইকেল প্রতীকের জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য হালিমা হাবিজ লিপি ও দোয়াত-কলম প্রতীকের জলিল হোসেন।
মোমেন মোল্লা বলেন, ‘আনাসর প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে আমার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। আমার ছেলে আশিকুর রহমান পাভেল মারা যাওয়ার পর থেকে প্রায়ই গরিবদের সহযোগিতা করে আসছি। শুক্রবার লুঙ্গি ও কিছু টাকা বিতরণ করেছি।’
ছেলের দোয়া চেয়ে যে অনুষ্ঠান, সেখানে কেন একজন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কয়েকজন দুষ্টুমি করে ওই সময় আনারস প্রতীকে ভোট চেয়েছে। এরপরও ওই ভিডিও দুষ্টুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে।’
নরসিংদী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল আলম রোববার রাতে সমকালকে বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে আনারস মার্কার প্রার্থী বাকির ও নরসিংদী চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোমেন মোল্লাকে শোকজ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।