রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>> ক্যারিয়ারের শুরুতে আলো ছড়িয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার কাটারে কাত হয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। তবে গত এক বছর ধরে চেনা ছন্দে নেই তিনি। বাংলাদেশের জার্সিতে একটা সময় ম্যাচসেরা হওয়াটা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন। ৫ বার পেয়েছেন ৫ উইকেটের দেখা। কিন্তু গত এক বছরে তাকে খুঁজে পাওয়া ভার।
তবে জাতীয় দলের বিবর্ণ মোস্তাফিজ আইপিএলে তার নতুন দল চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে নিজেকে বদলে ফেলেছেন। হারানো সেই দিন ফিরে পাচ্ছিলেন তিনি। যদিও সেগুলো চিপকের এম চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামের উইকেটে। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মতো মাঠে খেলা পড়লেই তালগোল পাঁকিয়ে ফেলেন মোস্তাফিজ। কাল সেটাই হয়েছে। ৫৫ রান খরচায় করে নেন ১ উইকেট। তবে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে সূর্যকুমার যাদবকে ফিরিয়ে সবকিছু ভুলিয়ে দেন।
গত এক বছরে ২২ ম্যাচ খেলে ২৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তিনটির বেশি উইকেট পেয়েছেন মাত্র তিনবার। যারমধ্যে একটিতে ৪৪ রানে ৪ উইকেটই সেরা। উইকেট শূন্য ছিলেন ১০ ম্যাচে। গড় ৪০.৬০। আর ১৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১০ উইকেট শিকার করেছেন ঠিকই। তবে ৫টিতেই ছিলেন উইকেট শূন্য। দুই উকেট নিয়েছেন দুবার। সেরা বোলিং ১৫-২। গড় ৩৪।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৫ ইনিংস খেলে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তার দখলে ছিল পার্পল ক্যাপই। যদিও সেটা যুজবেন্দ্র চাহালের মাথায়। তবুও ফিজ চেনা রূপে ফিরেছেন এতেই স্বস্তি। আর তাই বিশ্বকাপের আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজের চেয়ে আইপিএলের মধ্যে থাকাটা তার জন্য বেশি কার্যকর বলে মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্সের সাবেক চেয়ারম্যান আকরাম খান।
আকরাম আরও বলেন, ‘মোস্তাফিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা একটু চিন্তিত ছিলাম। গত এক বছর ধরে সে সংগ্রাম করছে। এখন আইপিএলে কিন্তু ওর পারফরম্যান্স ভালোর দিকে যাচ্ছে। একদম যে ভালো হচ্ছে তা না, যেহেতু লঙ্গার ভার্সন খেলে না, ও যদি আইপিএলে এরকম ভালো খেলতে থাকে তাহলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ বেশি উপকৃত হবে। এই জিনিসটা চিন্তা করতে পারে বোর্ড। তাই হয়তো তার এনওসির মেয়াদ একদিন বাড়ানো হয়েছে। এটা নির্ভর করছে টিম স্টাফ, নির্বাচক, জাতীয় দলের সঙ্গে যারা আছেন তারা চিন্তা ভাবনা করবেন। ও যে ভালো করছে এটা আসলে বাংলাদেশের জন্য ভালো।’
বিসিবি পরিচালক আকরাম খান আজ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার চেয়ে আমার মনে হয় চেন্নাইয়ের হয়ে আইপিএল খেললে সে অনেক কিছু শিখতে পারবে। আপনার ড্রেসিং রুম আছে, বড় ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলবে, ওখানকার স্ট্যান্ডার্ড ভালো, বিভিন্ন উইকেটে খেলছে, বিভিন্ন ধরনের ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলছে, আমার মনে হয় এই সুযোগটা ওর পাওয়া উচিত।’
চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্তই খেলার অনাপত্তিপত্র দিয়েছিল বিসিবি। বিশ্বকাপ ভাবনায় সেটার মেয়াদ আরও বাড়ানো উচিৎ কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছিল। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আর ৩টা ম্যাচ বাকি আছে চেন্নাইয়ের। পরের দিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠে খেলা আছে পাঞ্জাবের বিপক্ষে। সেই ম্যাচের জন্যও এবার তাকে অনুমতি দিয়েছে বিসিবি।
আকরাম যোগ করেছেন, ‘মোস্তাফিজ যে ধরনের খেলোয়াড় ওকে যদি আপনি ব্যবহার করতে পারেন তাহলে আপনি শতভাগ উপকৃত হবেন। যেটা চেন্নাই করছে। আপনি দেখেন কলকাতার বিপক্ষে যেভাবে বল করেছে, যেভাবে পরিকল্পনা করেছে, সত্যি কথা বলতে চেন্নাইয়ের হয়ে যত ম্যাচ খেলবে সে ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হবে তার সঙ্গে বাংলাদেশও উপকৃত হবে।’