রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আজ মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর সকাল ৯ টার দিকে মিডটার্ম পরীক্ষা বর্জন করে অধ্যক্ষের অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে তারা কক্ষের বাইরে তালা দিয়ে অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এরপর দুপুর ১২ টার দিকে ইনস্টিটিউট সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক আধঘন্টার মত সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা। এসময় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) মুখ্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ক্লাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনা কারনে হেনস্তা করেআসছেন। শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। তিনি ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করেন। তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললেই ব্যবহারিক পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দেন। ছাত্রদের মাদক মামলায় ফাসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। প্রতি সেমিষ্টারে ছাত্র কল্যান তহবিলের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়। তবে কোনো শিক্ষার্থীদের অসুবিধার জন্য ছাত্র তহবিল থেকে কিছু অর্থ সাহায্য চাইলে অপমান করে। ছাত্র তহবিল, চিকিৎসা ফি ইত্যাদির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকার নেওয়া হলেও ছাত্রদের জন্য কোনো সামান্য চিকিৎসার সরঞ্জামও দেওয়া হয়না।
শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষের কারনে সবাই অতিষ্ঠ। অবশেষে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। আমাদের দাবি হচ্ছে, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে অপসারণ, দ্রুত নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া, শিক্ষার্থীদের হেন্তস্তা ও হয়রানি বন্ধ করা, শিক্ষার্থীদের হুমকি-ধামকি বন্ধ করা, অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করা এবং ছাত্রদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষে ইনস্টিটিউটের ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা করা। দাবি মানা না পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খোলা হবে না।
এয়ারপোর্ট থানার এসআই অলিপ কুমার সাহা জানান, দুপুর ১২ টার দিকে শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য ইনস্টিটিউট সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে অবরোধ করেন। পরে প্রশাসন ও ঊর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিলে তারা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুঠোফোনে জানান, সকাল ৯ টার দিকে মিডটার্ম পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা বর্জন করে হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন । আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে তারা দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করছেন। তবে তারা তো আগে কখনো আমাকে বা অন্য কোনো শিক্ষককে বিষয়টি জানাতে পারতেন। আসলেই এর পেছনে অন্য কোনো কারন রয়েছে কি-না তাও বলতে পারছি না। জানতে পেরেছি বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইনস্টিটিউটে এসেছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।