শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> গত দুই সপ্তাহের টানা বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বসতবাড়ির চারিদিকে পানি ওঠায় ব্যাহত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অনেক পরিবারে খাদ্য সংকট দেখা দিলেও ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছে না কেউ।
উজানের পাহাড়ি ঢলের লালচে কাদা পানিতে জমির ফসল নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। চারণভূমি তলিয়ে থাকায় গবাদিপশুর খাদ্য সঙ্কট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যা কবলিতরা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রৌমারী উপজেলায় প্রায় ২২৩ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কাদামাখা পানিতে তলিয়ে থাকা উঠতি আউশ ধান, পাট, মরিচ, কাউন ও তিলসহ বিভিন্ন সবজিজাতীয় ফষল সম্পূর্ণ ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষক।
কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত পাঁচদিন ধরে রৌমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষা নদী জিঞ্জিরাম, ধরনী ও কালজানির পানি বৃদ্ধি পেয়ে এ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে পানিবন্দি জীবন যাপন করছে রৌমারী উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।
সদর ইউনিয়নের বাওয়াইর গ্রামের ছপিয়াল হক জানান, চারদিকে বন্যার পানি থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিন যাপন করছেন।
রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের কৃষক সেফাত উল্ল্যা বলেন, আমার কাউন ক্ষেত, সবজি ক্ষেত পাঁচদিন ধরে পানিতে তলিয়ে আছে। সব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।
যাদুরচরের ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, তালিকা দেয়া হয়েছে, কিন্তু সরকারিভাবে এখনো কোন বরাদ্দ পাই নাই। বরাদ্দ পেলে তা বন্যা কবলিতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
যাদুরচর ইউনিয়নের পুরাতন যাদুরচর গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, পানিবন্দি অবস্থায় থাকলেও এখনও কোনো সহায়তা দেয়নি কেউ।
অন্যদিকে উপজেলার ২২ কিলোমিটার পাকা ও ৩৫ কিলোমিটার কাচা সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ অবস্থায় নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় যাতায়াত করছে বন্যা কবলিতরা।
রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী জোবায়েত হোসেন জানান, বন্যার পানি নামার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত মেরামত করা হবে।
বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, কিছুু এলাকায় পানি কমলেও উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলেই ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।