সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার হোসেন :: বরিশাল সদর হাসপাতালে করোনা টেস্টের রিপোর্ট পেতে ঘাটেঘাটে হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর হাসপাতালে করোনার রিপোর্টের জন্য ভুক্তভোগী লোকেরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে দৌড়াদৌড়ি করছে এমনকি ডাক্তার দেলোয়ার হোসেনকে নিয়ে যেখানে সেখানে দাড়িয়ে বাজে মন্তব্য এবং করোনার অভিশাপ দিয়ে থাকেন।
এক কথায় ভুক্তভোগীরা মনে করেন, আসলে করোনার রিপোর্টগুলো ডাক্তার দেলোয়ারের হাতে হয় এবং রিপোর্ট না দিয়ে সে মানুষকে হয়রানি করছেন। ডাক্তার দেলোয়ার হোসেনের অফিস রুমের সামনে এক ভদ্র মহিলা বলেন, আমি করোনা টেস্টের নমুনা দিয়েছি প্রায় নয় দিন আগে এখনও রিপোর্ট দেয় না ডাক্তার দেলোয়ার এই কথা বলে অভিশাপ দিতে থাকেন ওই মহিলাসহ আরো কিছু রোগীর স্বজনরা। দেশে করোনা থাবার ১১২ দিন পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ৭৩৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন।
কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে এখনো বরিশালে করোনা পরীক্ষার জটিলতা, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতা কাটেনি। আর করোনা চিকিৎসার বেশি অভাব রয়েছে বরিশালে। বরিশাল সদর হাসপাতালে মানুষ সহসাই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পারছেন না। ভুক্তভোগী রোগীরা বলেন, নমুনা দেয়া সহজ কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া দীর্ঘসূত্রিতা। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যারা নমুনা দিতে পারছেন ফলাফলের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে এক থেকে দুই সপ্তাহের বেশি সময়। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় রয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। সদর হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি আর হয়রানি চরমে।
রিপোর্টের জন্য রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও রিপোর্ট পাচ্ছেন না। ফলাফলের অপেক্ষা করতে করতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন বলেও অভিযোগ আছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, করোনার এই ১১২ দিনে সদর হাসপাতারে টেস্ট হয়েছে মাত্র ১ হাজার একশত। আর পরীক্ষা করালেও রিপোর্ট মিলতে মিলতে সময় লেগে যায় ৭ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত। বরিশালের অবস্থা দিনকে দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এছাড়াও যারা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন তাদের অধিকাংশরই করানো পরীক্ষা রিপোর্ট পাচ্ছেন না ফলে তাদের স্বজনরা ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছেন। এছাড়া বরিশালে টেস্ট করানোর অধিকাংশ স্থানগুলোই শহরে। ফলে গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বরিশালের স্টাফ রিপোর্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, বরিশাল সদর হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য সুযোগ মিলছে কিন্তু এখানে দীর্ঘ দিন ধরে শুধুমাত্র নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিন্তু করোনা রিপোর্ট ফলাফল পেতে সময় লাগছে ৫ থেকে ১০দিন পর্যন্ত। বড় সমস্যা করোনা টেস্ট করা না করা একই অবস্থ্য। তবে সদর হাসপাতালের তথ্য কর্মকর্তা ডাক্তার দেলোয়ার হোসেন বলেন, আসলে রোগীদের এমন অবস্থা দেখে আমাদের কষ্ট লাগে কিন্তু কিছুই করার নেই। রিপোর্টগুলো আসলে আমাদের কাছে আসতে দেড়ি হয়। এতো দেড়ি হয় যে সেই সময়ের মধ্যদিয়ে অনেক রোগীর স্বজনরা বেশি চিন্তিত থাকে কি আসে রিপোর্ট।
রোগীর স্বজনরা যখন আমাদের দোষারোপ করে তখন আমরা তাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জাগায় যেতে বলি। আসলে রিপোর্ট আসলে তো আমাদের কাছেই আসবে কিন্তু তার পরেও আমরা তাদের কখনও সিভিল সার্জেন অফিসে কখনও সিটিকোপরেশনে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলি। আসলে এই মহামারি সময়ে রোগীর স্বজনদের সাথে যে মিথ্যা আশ্রয় নিয়ে থাকি সেটা আসলে ঠিক না এই জন্য আমি দুঃখিত।