রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বকেয়া বেতনের দাবিতে বরিশালে ফরচুন সু লিঃ শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ আগৈলঝাড়ায় বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ছদ্মবেশী নারী দাঁড় করিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও দলিল বাতিলের দাবি সততা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চরফ্যাশনের ইউএনও রোমান আফরোজ বরিশাল সদরের চরকরজিতে সরকারি খাল ও চরের মাটি কাটার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র!
করোনা চিকিৎসায় হয়রানির শিকার, ডাক্তার কাছে না আসলেও কনসালটেন্ট ফি ৪৯ হাজার টাকা?

করোনা চিকিৎসায় হয়রানির শিকার, ডাক্তার কাছে না আসলেও কনসালটেন্ট ফি ৪৯ হাজার টাকা?

নিউজ ডেস্ক :: মো. মোজাম্মেল হক। ৬৭ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। জীবনের শেষ বয়সে এসে আবারও অদৃশ্য করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছেন।

করোনা যুদ্ধে জয়ী হয়ে সেই মুক্তিযোদ্ধা বাসায় ফিরেছেন ঠিকই। কিন্তু দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে চরম তিক্ত অভিজ্ঞতা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি ও তার পরিবার। কারণ করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই দিনে মাত্র ৩০ মিনিট অক্সিজেন ব্যবহারের বিল দিতে হয়েছে ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা। শুধু তাই নয়, ডিউটি ডাক্তার ছাড়া কোনো চিকিৎসকই তাকে দেখেনি হাসপাতালে। তবুও চিকিৎসকের কনসালটেন্ট ফি দিতে হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা।

আজ রবিবার দুপুরে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. তৌহিদুল হক সোহেল।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা চট্টগ্রামে থাকতেন। সেখানে তার করোনা পজেটিভ ধরা পড়ার পরেই ঢাকায় এনেছি। বাবার শরীরে করোনার কোনো উপসর্গই ছিলো না। তবুও যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেকারণে তাকে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে ভর্তি করছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবার খুব বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছে। তার রুমে কোনো চিকিৎসক দেখা করতে যায়নি। এক দিন শুধু মাত্র একজন ডাক্তার দরজা থেকে হাত ঈশারা দিয়েছেন। তবুও চিকিৎসকের কনসালটেন্ট ফি দিতে হয়েছে ৪৯ হাজার টাকা।’

‘এ ছাড়া কোনো ক্লিনার বা অন্য কেউ যায়নি তার রুমে। তবুও রুমের সার্ভিস চার্জ ধরা হয়েছে প্রতিদিন ৪৫ হাজার ৪০০ টাকা’, বলেন তিনি।

এই মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ লাগার বিষয় হলো আমার বাবার কোনো শ্বাসকষ্ট ছিল না। তাকে আমি নিজেই অক্সিমিটার কিনে দিয়েছিলাম। দুই দিন তার সামান্য অক্সিজেনের দরকার হয়েছে। মাত্র ১০/১৫ মিনিট করে দুই দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট অক্সিজেন নিতে হয়েছে বাবাকে। তবু্ও সেই অক্সিজেনের বিল তারা করেছেন ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা।’

‘আমি হাসপাতালে জিজ্ঞাসা করছিলাম প্রতি ঘণ্টা অক্সিজেনের বিল কত। তারা তখন আমাকে জানায় ঘণ্টা ৪০০ টাকা। যদি সেই হিসেবেও ধরি যে দুই দিন ২৪ ঘণ্টাই বাবার অক্সিজেন লেগেছে। তবুও তো এত বিল হবে না’, যোগ করেন তৌহিদুল হক সোহেল।

মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের বিলগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ‘হাসপাতালে ৯ দিনে ২১৬ ঘণ্টার বিল অক্সিজেন বিল ৪০০ টাকা হিসাবে ৮৬ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। হাসপাতালের বিল ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪২০ টাকা। চিকিৎসকের ফি ৪৯ হাজার টাকা। ইনভেস্টিগেশন বিল ৮ হাজার ১৭০ টাকা এবং ওষধের বিল ধরে দেওয়া হয়েছে ৮ হাজার ৭৫২ টাকা।

ভুক্তভোগী মোজাম্মেল হকের ছেলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের ম্যানেজার মো. নেওয়াজের সঙ্গে কথা হয়৷ তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি আমার জানা নেই।’

অক্সিজেনের বিল প্রতি ঘণ্টায় কত টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটাও আমি জানি না।’ এই বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯