রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন নিউজ ॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে (কোবিড-১৯) মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়নি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্দেশে গোপন অভিযানে তাকে হত্যা করা হয়। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে লন্ডনের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এমন খবর প্রকাশ করেছে বলে জানায়।
ওই খবরে বলা হয়, কয়েক মাস আগে করাচিতে কঠোর নিরাপত্তায় মোড়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের আড্ডায় এই অভিযানটি চালানো হয়। সেনাবাহিনীর চিকিৎসক শাখা এই অভিযান চালায়। আর এ কারণেই হঠাৎ একের পর এক অঙ্গ বিকল হয়ে দাউদের মৃত্যু হয়েছে। মনে করা হচ্ছে— সম্ভবত কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক ইঞ্জেকশন তার শরীরে দেয়া হয়েছিল।
এদিকে গত শনিবার দাউদের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম মুম্বাইয়ের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে জানায়, ‘ভাই (দাউদ) এবং তার ডান হাত ছোটা শাকিল সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।’
ভারতের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র নির্দেশেই আনিস এই বার্তা পাঠিয়েছে। কারণ দাউদের পরিবারকে ডনের মৃত্যুসংবাদ অস্বীকার করার নির্দেশই দিয়েছে আইএসআই।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ থেকে দাউদের বিরুদ্ধে তৎপর হয় পাকিস্তানের সেনা বাহিনীর একটি অংশ। তখন থেকেই দাউদকে হত্যার পরিকল্পনা সাজানো শুরু হয়। তাদের সূত্রও জানায়, মূলত মার্কিন চাপেই এই সিদ্ধান্ত। বহু মার্কিন নাগরিককে হত্যায় অভিযুক্ত দাউদকে করাচি ত্যাগ করার জন্য পাকিস্তানের ওপরে চাপ দেয় আমেরিকা। ভারতও দাউদ ও পশ্চিম এশিয়ার নানা জায়গায় থাকা তার আত্মীয় স্বজনদের বিষয়ে মার্কিন এবং অন্য কয়েকটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে রিপোর্ট সরবরাহ করে গোপন অভিযানের জন্য চাপ বাড়াচ্ছিল।
আরো বলা হয়, মার্কিন অভিযানে বিন লাদেনের মৃ্ত্যুর পরে যে ভাবে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি চায়নি দেশটি। তাই পাক সেনাবাহিনী দাউদকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। একইসঙ্গে সঙ্গে অপরাধ জগতে তার প্রভাব আটকাতে মৃত্যুসংবাদ গোপন করারও কৌশল নেয় হয়।
এদিকে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানায়, দাউদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট খবর তাদের কাছে নেই। ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর থেকেই ভারত, আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন দাউদকে আশ্রয় দেয়া বন্ধ করে আদালতে হাজির করার জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ডনের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পাকিস্তান লাভবান হতে পারে বলে মনে করছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারত সরকার মনে করে দাউদ বেঁচে আছে এবং বিশ্ব জুড়ে নিজের অপরাধ-সাম্রাজ্য দিব্যি পরিচালনা করে চলেছে।