শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
আরিফ হোসেন :: মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, সেই মুহূর্তে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) সংকটের মধ্যেই রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বরিশালের অ্যাম্বুলেন্স চালকরা।
রোগী বহনে ফোন এলেই দ্রুত ছুটে যান রোগী আনতে। এর প্রধান কারন হচ্ছে সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব। তবে সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব থাকলেও মানবসেবা থেকে বিরত রাখতে পারেনি অনেক চালককে। অসুস্থদের বাড়ি থেকে হাসপাতালে পৌঁছানোর সেবা দিচ্ছেন তারা।
বরিশালে শহরে প্রায় ৩ শ’ বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এরমধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসাপতালের চক্রে বেসরকারী প্রায় ৬০ টি অ্যাম্বুলেন্স রোগী বহন করে।
১২ শ’ শয্যা বিশিষ্ট শেবাচিম হাসপাতালে মাত্র ৩ টি অ্যাম্বুলেন্স তার মধ্যে ১ টি নষ্ট। শেবাচিম হাসপাতাল চক্রে বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স চালক কবির বলেন, “আমি ৫ বছর ধরে অ্যাম্বুলেন্স চালাই। আমার পরিবারে স্ত্রী, সন্তান সবাই বসবাস করে চরের বাড়ি এলাকায়। বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের লোকজন সব সময়ই আতঙ্কের মধ্যে থাকে। আমি অ্যাম্বুলেন্সে বিভিন্ন হাসপাতালের রোগী বহনের পর রাতে যখন বাসায় ফিরি তখন আমার পরিবারের সদস্যরা কাছে আসতে ভয় পায়। খুব কষ্ট হয় তখন। তারপরও রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি আমি। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও সরকার থেকে আমি কোন সুরক্ষা সরঞ্জাম পাইনি”।
শুধু আমি নয় আমার মত এখানের অন্য ড্রাইভারদেরও একই অবস্থা। একাদিক চালকরা আরো বলেন, দেশে প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্তর সংখ্যা বেড়েই চলছে। এর মধ্যে আক্রান্ত সংখ্যা বেশি হলো ঢাকায়। দক্ষিনঞ্চলের মানুষের এক মাত্র ভরসা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। বেশি অসুস্থ এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের এখান থেকে চিকিৎসকরা ঢাকায় প্রেরন করেন তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য। রোগীদের ঢাকায় নিতে হলে আমাদের এখান থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যেতে হয় আমাদের। আর আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মুমুর্ষ রোগীদের ঢাকায় দিয়ে আসি।
শুধু তাই নয় প্রতিদিনই করোনা ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালে আসছে বেশ কিছু এ্যাম্বুলেন্স। তারা আরো বলেন আমাদের এখানে মালিক সমিতি রয়েছে মাত্র নামে। তারা খুজে শুধু টাকা। আমাদের কথা কখনও চিন্তা করে না। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া একন পর্যন্ত দেয়নি কোন পিপি অথবা সুরক্ষা সরঞ্জাম। দক্ষিঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে নিয়ে আসা হয় করোনা সন্দেহ রোগীদের। শুধু তাই নয় এখন পর্যন্ত তারা পায়নি কোন ত্রান। এব্যাপারে শেবাচিম হাসপাতালের মধ্যে বেসরকারী অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক শাহাদাত হোসেন বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিরলস ভাবে।
সরকার যদি বরিশালের অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সুবিধার জন্য সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই), মাস্ক, গ্লোপস, হ্যান্ডসেনিটাইজার দিতো তবে নিরাপদ থেকে রোগীদের সেবা দিতে পারতো তারা। তিনি আরো বলেন, আমাদের ছোট সংগঠন। তার পরেও কয়েক জনকে পিপি ও ম্যাস্ক দেওয়া হয়েছে।