শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেক্স : বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে ভারত ইচ্ছে করে ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর হোটেল লেক ক্যাসেলে আয়োজিত শীর্ষ্ক গোল টেবিল বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ফারাক্কা বাঁধ খুলে দিয়েছে ভারত, একথা সঠিক নয়। বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে ভারত ইচ্ছে করে ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয়নি।
এসময় এমনিতেই ভারত ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয় বলে উল্লেখ করে আবদুল মোমেন বলেন, স্বাভাবিকভাবেই পানির বাঁধ খুলে দিয়েছে ভারত। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা ভারতের অবস্থান জানেন, আমাদের অবস্থান কী সেটাও জানেন। সুতরাং ভারত সফর ফলপ্রসূ হবে।
গত সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফারাক্কা বাঁধের ১০৯টি লকগেট খুলে দেয় ভারত। এতে বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমের কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিহার এবং উত্তর প্রদেশের বেশ কয়েকটি শহরে বন্যা হওয়ায় ফারাক্কা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয় তারা।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। এরপর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিবছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ফারাক্কা বাঁধের গেটগুলো খোলা থাকে যা নিয়মিত ব্যবস্থাপনারই অংশ।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত দুই দেশ পানি ভাগাভাগি করে নেবে।
ভারত কোন মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধের স্লুইস গেট বন্ধ রাখবে, কখন খুলে দেবে, সে বিষয়ে চুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারত কী পরিমাণ পানি পাবে সেটা নির্ভর করবে উজানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, পানির প্রবাহ ও গতিবেগের ওপর।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, নদীতে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি থাকলে দুই দেশ সমান সমান পানি ভাগ করে নেবে। পানির পরিমাণ ৭০ হাজার কিউসেক থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক হলে ৪০ হাজার কিউসেক পাবে বাংলাদেশ। অবশিষ্ট প্রবাহিত হবে ভারতে। আবার নদীর পানির প্রবাহ যদি ৭৫ হাজার কিউসেক বা তার বেশি হয় তাহলে ৪০ হাজার কিউসেক পানি পাবে ভারত। অবশিষ্ট পানি প্রবাহিত হবে বাংলাদেশে।
তবে কোনো কারণে যদি ফারাক্কা নদীর পানির প্রবাহ ৫০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে যায় তাহলে দুই দেশে কে কি পরিমাণ পানি পাবে সেটা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।
অন্যদিকে যাচাই বাছাইয়ের পর রোহিঙ্গাদের নাগরিক পরিচয়পত্র দিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার বলে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার স্বীকার করেছে, তাদের ফরমে ভুল আছে। এটা সংশোধন করবে। যাচাই বাছাইয়ের পর তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিক পরিচয়পত্র দিতেও রাজি হয়েছে। এটা একটা বড় অর্জন।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইড লাইনে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শক্তিশালী আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে যায় এজন্য তিন দেশের সমন্বয়ে যৌথ কমিশন করা হবে।
এদিকে চলমান রোহিঙ্গা সংকট ও ফারাক্কা বাঁধ ইস্যুর মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফরে দুই দেশের মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ৮টি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শনিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যোগাযোগ, সংস্কৃতি, কারিগরি সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী বার্তা সংস্থা বাসসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাইকমিশনার বলেন, তিস্তা ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ সকল বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আমরা কোনো ধারণা পোষণ করতে পারছি না।
সুত্র ওডি/এআর