সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন
ঢাকা থেকে বরিশাল ভায়া নন্দীররবাজার নৌপথের মধ্যে প্রভাব খাটিয়ে ছদ্মনামে একাধিক ঘাটের সময়সূচি অনুমোদনের অভিযোগে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ইউনিটিতে ছদ্মনামে এসব ঘাট অনুমোদনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থ বিআইডব্লিউটিএ’র ঘাট ইজারাদার ও ঘাট মালিকদের পক্ষে মিয়ারচর লঞ্চঘাটের মালিক সরদার মনিরুজ্জামান মনির বুধবার (০৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ঢাকা-বরিশাল ভায়া নন্দীরবাজার, ঢাকা-টরকী, ঢাকা-সূর্যমনি, ঢাকা-মাদারীপুর, ঢাকা-মুলাদী নৌপথে বিভিন্ন কোম্পানীর ১৮টি লঞ্চ সময়সূচী অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ যাত্রীসেবা দিচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর কতিপয় কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজসে বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপুর স্বত্বাধিকারী মেসার্স ফারহান নেভিগেশন ও মেসার্স আগরপুর নেভিগেশন কোম্পানীকে অনিয়মের মাধ্যমে গত ৮ আগষ্ট সময়সূচী অনুমোদন দেয়। যেখানে ঢাকা হতে বরিশাল ভায়া নন্দীরবাজার নৌপথের মধ্য থেকে সৃষ্ট ঢাকা হতে নবাবেরহাট ছদ্মনামে বা জালিয়াতি নামে সিমসনঘাট, ঢাকা হতে চরলক্ষ্মীপুর সিকদারবাড়িঘাট নামক বিতর্কিত নৌপথে সময়সূচী অনুমোদন দেয়। এর ফলে ঢাকা-বরিশাল ভায়া নন্দীরবাজার নৌপথের এবং আশেপাশের বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অনুমোদিত এবং পুরানো ঘাটগুলোর ইজারাদার কিংবা ঘাটমালিকগণ মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সন্মুখিন হতে শুরু করে। উক্ত ঘাটগুলোর গরিব পরিবার জড়িত রয়েছে, তারাও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বর্তমানে ঘাটে ঘাটে উত্তেজনাসহ জানমালের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে। ফলে সরকারও লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। তাছাড়া ঢাকা-বরিশাল ভায়া নন্দীরবাজার ও ঢাকা-টরকী নৌপথের লঞ্চ কোম্পানীগুলো সর্বাধিক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। তিনি আরো বলেন, ঢাকা থেকে বরিশাল ভায়া নন্দীরবাজার নৌপথে মেসার্স ডলার শিপিং লাইন্স ও মেসার্স ই-আলী শিপিং লাইন্স কোম্পানীর সাথে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এ সুযোগে ছলচাতুরী প্রতারনার মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক অনুমোদিত ঘাটের প্রকৃত নাম বাদ দিয়া ছদ্মনাম বা জালিয়াতি নাম ব্যবহার করে গোলাম কিবরিয়া টিপুর কোম্পানীকে বিতর্কিত নৌপথে সময়সূচী অনুমোদন দেয়া হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কোনো নৌপথে নতুন কোনো লঞ্চ কোম্পানীকে সময়সূচী অনুমোদন দিতে হলে বিআইডব্লিউটিএ-এর নির্ধারিত কিছু নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে এবং লঞ্চ মালিক সমিতির মতামত নিয়ে দিতে হয়। কিন্তু সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপুর কোম্পানীর বেলায় তা করা হয়নি। এসময় তিনিগোলাম কিবরিয়া টিপুর লঞ্চ কোম্পানীকে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে দেওয়া সময়সূচী আমরা অবিলম্বে বাতিলের দাবী জানান। তবে এ ব্যাপারে সাংসদ গোলাম কিবরিয়া টিপু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি বিআইডব্লিউটিএ’র সকল নিয়ম মেনে লঞ্চঘাট গুলো পরিচালনা করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরদার মনির আমার কাছে একটি লঞ্চ ভাড়া নিতে এসেছিলো না দেয়ার কারনে ষড়যন্ত্র করছে।