শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ০৯:৩৭ অপরাহ্ন
অতিথি প্রতিবেদক, শফিক মুন্সি ::
ডিভোর্সের পরও শারিরীক সম্পর্কে মিলিত হবার সুযোগ না দেওয়ায় মোবাইল ফোনে এক নারীকে ‘এসিড মেরে মুখ ঝলসে দেবার ‘ ও ‘ কেটে টুকরো টুকরো করে কাবাব বানানোর ‘ হুমকি দেওয়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ২৮ আগস্ট মোঃ নূর ইসলাম নামের সেই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো কজ লেটার) দেওয়া হয় যা আজ বৃহস্পতিবার তিনি গ্রহণ করেছেন বলে অফিস সূত্রে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে এক কর্মকর্তা জানান নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসার পর একেক করে ফিজিকাল ইন্সট্রাক্টর মোঃ নূর ইসলামের আরো অনেক প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারী ঘটনা সামনে আসতে শুরু করেছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষক পরিচয়ে একাধিক বিয়ে, অনুমতি ব্যাতিত ছুটি গ্রহণ, ক্রিড়া সামগ্রী কেনার তহবিল তছরুপ ইত্যাদি নানা অপকর্মের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যেগুলো সাবেক উপাচার্যের সময় থেকে অনেকে জানলেও কেউ অভিযোগ করার সাহস পায় নি।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বরাত থেকে জানা যায়, প্রশাসনিক শুদ্ধাচার ভঙ্গের কারণেই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো কজ) দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা নৈতিক স্খলন, তহবিল তছরুপ নাকি প্রশাসনিক অন্য কোনো কারণে করা হয়েছে সেটা স্পষ্টভাবে জানা যায় নি। তবে নারীকে হুমকি প্রদানের কল রেকর্ডিং ফাঁস হবার পরপরই কেন শো কজ করা হলো এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার কার্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রসংঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে জানান, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয় এমন কোনো কাজের ব্যাপারে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মহোদয় জিরো টলারেন্স অবস্থানে আছেন। ” তারা আরো উল্লেখ করেন মোঃ নূর ইসলাম বিনা অনুমতিতে কিছুদিন ছুটি ভোগ করেছেন এবং প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে দূরালাপনিতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেন নি। এসব কারণেই মূলত তাকে প্রাথমিকভাবে বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে।
আইন অনুযায়ী অফিসে অনুপস্থিত থাকলে সাধারণত বেতনের টাকা কর্তন করা হয়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ কর্মকর্তা জানান, নারী কেলেঙ্কারি ঘটিত অডিও ফাঁসের ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন হার্ড লাইনে গিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। কারণ অফিসে অনুপস্থিতির কারণে এধরনের শাস্তির ঘটনা বিরল। এটি মোঃ নূর ইসলামের কর্ম জীবনের জন্য লাল কার্ড।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি একাধিক নারীর সঙ্গে মোঃ নূর ইসলামের গোপনীয় কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এ ব্যাপারে প্রথম আলোচনার ঝড় ওঠে। তখন অনুসন্ধানে মোঃ নূর ইসলামের সাবেক এক স্ত্রীর কল রেকর্ডিং বেড়িয়ে আসে যেখানে তিনি কথামতো না চললে ঐ স্ত্রীকে “এসিড মেরে মুখ ঝলসে দেবার ” ও ” কেটে টুকরো টুকরো করে কাবাব বানানোর ” হুমকি দেন। ঐ নারী এসব ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে বিচার দেবার কথা জানালে মোঃ নূর ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যাপারে তাচ্ছিল্যের সুরে কথা বলতে শোনা যায় ফাঁস হওয়া অডিওতে।