সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> শিবিরের নেতাকর্মীরা ফেনী সরকারি কলেজের চলমান সংকট সমাধান ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার আলোকে ফ্যাসিবাদমুক্ত ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছেন। এসব দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এনামুল হক খোন্দকারকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন কলেজ শিবিরের সভাপতি মুহাম্মদ ইউনুছ ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ হাসান।
ফেনী কলেজ শিবির সভাপতি জানান, জুলাই বিল্পবের পর সময় ফেনী সরকারি কলেজকে সংস্কারের মাধ্যমে একটি আদর্শিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি। সেজন্য ২৫ দফা প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে নিহত ফেনী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শহিদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ ও মাসুদের নামে স্থাপনা অথবা ফলক নির্মাণসহ তাদের পরিবারকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ সময় অধ্যক্ষকে ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেন তারা। উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা শিবিরে দফতর সম্পাদক ইমাম হোসেন, জেলা এইসআরডি সম্পাদক ইয়াসিন ভূঞাসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের দায়িত্বশীলবৃন্দ।
এছাড়া ২৪–এর জুলাই বিপ্লবে ফেনী সরকারি কলেজের যেসব ছাত্র, শিক্ষক–কর্মচারী ফ্যাসিবাদের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছিল, প্রত্যক্ষভাবে গণহত্যাকে সমর্থন ও পরোক্ষভাবে গণহত্যার পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছিল তাদেরকে চিহ্নিত করে অতিদ্রুত তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের দোসর ও আইকনদের নামে ফেনী কলেজ ক্যাম্পাসে যেসব স্থাপনা, সড়ক, সেন্টার, বৃত্তি–সম্মাননা, চেয়ার ও ফলকের নামকরণ করা হয়েছে, তা অবিলম্বে পরিবর্তন করার দাবি জানানো হয়েছে।
আরো যেসব দাবি জানিয়েছে শিবির– ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টি, বিগত ১৬ বছরের নিপীড়ন, সন্ত্রাস ও জুলাই গণহত্যার দায়ে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের ফেনী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক আইনের মাধ্যমে বিচার, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে কলেজ প্রশাসনের অভ্যন্তরে প্রকাশিত সব দুর্নীতির তথ্য শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ, কলেজের মধ্যে আধুনিক ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, নান্দনিক মসজিদ নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের মসজিদে নামাজ পড়ার আলাদা ব্যবস্থা ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রার্থনার ব্যবস্থা, কলেজে নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হোস্টেল সিটের ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নীতিতে হল পরিচালনা, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা, ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রক্ষাপ্রাচীর মজবুত করা, স্বচ্ছতার সঙ্গে শতবর্ষী অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ, কলেজ মাঠ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, প্রতিটি বিভাগে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও ওয়াশরুম স্বাস্থ্যসম্মত ও ব্যবহার উপযোগী করা, খেলাধুলার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিশ্চিত করা, আন্তঃবিভাগীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, মানসম্মত ক্যান্টিন চালু করা, ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের সব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সব ধরনের ভর্তিবাণিজ্য বন্ধ, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাস চালু, উচ্চ মাধ্যমিক ও সব বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও ডিজিটাল শ্রেণি কক্ষের ব্যবস্থা, শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে শিক্ষকদের প্রাইভেট–টিউশন অথবা ব্যক্তিগত কাজে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান না করা, উচ্চ মাধ্যমিক ও অনার্স (বিজ্ঞান) শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যাধুনিক ল্যাব স্থাপন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কলেজের সব ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি ও অফিস কর্মকর্তা–কর্মচারীদের সৌজন্যমূলক আচরণ নিশ্চিত ও অবৈধভাবে কলেজের দখল হওয়া সব সম্পত্তি উদ্ধারে অতিদ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও চলমান ছাত্র সংসদ ভেঙে অতিদ্রুত সময়ে ফেকসু নির্বাচন আয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।