বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ন
অনুসন্ধান ২৪ >> কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায়। সোমবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ কবির উদ্দিন প্রামাণিকের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এদিন দুই ব্যাংক কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু।
দুদক সূত্র জানায়, ৪৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৪ টাকার তথ্য গোপন এবং ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালে বদির বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুদক। পরের বছর তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। মামলার সময় আবদুর রহমান বদি টেকনাফ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। পরে বদি উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে এলে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত থাকে। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালে মামলাটি সচল হয়।
২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচার শুরু হয়। বিচারের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান বদি। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেন। পরে একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
সাক্ষ্য দেওয়া দুজন হলেন- ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখার সাবেক ম্যানেজার এবং ইসলামী ব্যাংক কক্সবাজার শাখার তৎকালীন অফিসার।
আইনজীবী কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সোমবার দুপুরে টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে আদালতে হাজির করা হয়। এদিন দুই ব্যাংক কর্মকর্তা সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর আবার তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ২৪ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে আবদুর রহমান বদিকে গ্রেফতার করে র্যাব। সরকার পতনের পর টেকনাফ থানায় হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় মাদক চোরাচালানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নাম রয়েছে আবদুর রহমান বদির। ‘মাদকের গডফাদার’ হিসেবে বদির চার ভাইসহ পরিবারের অন্তত ২৬ জনের নাম রয়েছে তালিকায়।
আবদুর রহমান বদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বদির পরিবর্তে তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। তিনি দুই দফায়ই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।