শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বকেয়া বেতনের দাবিতে বরিশালে ফরচুন সু লিঃ শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ আগৈলঝাড়ায় বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ছদ্মবেশী নারী দাঁড় করিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও দলিল বাতিলের দাবি সততা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চরফ্যাশনের ইউএনও রোমান আফরোজ বরিশাল সদরের চরকরজিতে সরকারি খাল ও চরের মাটি কাটার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র!
জামায়াত-বিএনপির শীর্ষ ৫০ নেতা নাশকতার পরিকল্পনাকারী

জামায়াত-বিএনপির শীর্ষ ৫০ নেতা নাশকতার পরিকল্পনাকারী

জামায়াত-বিএনপির শীর্ষ ৫০ নেতা নাশকতার পরিকল্পনাকারী
জামায়াত-বিএনপির শীর্ষ ৫০ নেতা নাশকতার পরিকল্পনাকারী

অনুসন্ধান ২৪ >> কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে জামায়াত-বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতার নাম পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাঁরা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছিলেন। ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলার পরিকল্পনা করেন। তাঁদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

নেপথ্যে জামায়াত-বিএনপির শীর্ষ ৫০ নেতা

সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্তের এ পর্যায়ে জানতে পেরেছে, এসব হামলা, নাশকতা ও সহিংসতার নেপথ্যে ছিলেন জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। বিএনপি নেতারা আড়ালে থেকে তাঁদের সহযোগিতা করেছেন। এ ব্যাপারে জামায়াত-বিএনপির অর্ধশতাধিক শীর্ষ পর্যায়ের নেতার নামের তালিকা করা হয়েছে।

গত কয়েক দিনের অভিযানে নাশকতায় অংশ নেওয়া ছয় শতাধিক বিভিন্ন পর্যায়ের সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, এর মধ্যে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীও রয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি জানতে পেরেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতেই সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ সারা দেশ থেকে অন্তত ৯ হাজার জামায়াত-শিবিরকর্মী ঢাকায় ঢোকেন।

ডিবি সূত্র বলছে, তালিকাভুক্ত এসব নেতার মধ্যে গ্রেপ্তার জামায়াত-বিএনপির উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সামিউল হক ফারুকী। এ ছাড়া গ্রেপ্তার না হওয়া জামায়াত-শিবিরের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের ৬৪ জন আমিরসহ কয়েক হাজার শিবিরের শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারে তালিকা করা হয়েছে।

এর মধ্যে এক হাজারের বেশি অস্ত্রধারী ক্যাডার। তাঁরা ঢাকার প্রতিটি থানা এলাকায় অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁদের সহযোগিতাকারী হিসেবে ছিলেন বিভিন্ন এলাকার বিএনপি, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ তথ্য জানিয়ে ডিবির ওই সূত্র বলছে, কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঢুকে তাঁদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিশেষ তালিকায় ছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তাঁদের এসব পরিকল্পনা সফল হয়নি।

ডিবি সূত্র বলছে, নাশকতার আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন জামায়াত-বিএনপি ও ষড়যন্ত্রকারী শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তারকৃত নেতারা হলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম, ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, বিএনপির নির্বাহী পরিষদের সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রাশেদু্জ্জামান মিল্লাত ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তরিকুল আলম। এ ছাড়া বিএনপির আরো অনেক কেন্দ্রীয় নেতাসহ মাঠ পর্যায়ের নেতারা এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্র জানায়। তাঁদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ডিবি সূত্র বলছে, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকে এই পরিকল্পনা ছিল জামায়াত-বিএনপিসহ আরো কয়েকটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের। এর বাইরে ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) ও গণ-অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুরও (গ্রেপ্তার) এই পরিকল্পনার মধ্যে ছিলেন। অপর একটি দলের নেতা অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদাকে গ্রেপ্তারের পর এই নাশকতায় সমর্থন দেওয়ার তথ্য পেয়েছে ডিবি।

নয়নকে খুঁজছে ডিবি

সাম্প্রতিক নাশকতায় মাঠ পর্যায়ে সামনে থেকে হামলাকারীদের মধ্যে একজনের নাম নয়ন। তার নিয়ন্ত্রণে অর্ধশতাধিক দুূর্বৃত্ত রয়েছে। তাদের মুল কাজ বিভিন্ন স্থাপনাসহ পুলিশের গাড়িতে হামলা, নাশকতা ও গুলি চালানো।

নয়ন ও তার সহযোগী দুর্বৃৃত্তদের হামলায় অনেক পুলিশ হতাহত হয়েছে জানিয়ে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, নয়নকে খোঁজা হচ্ছে। তাকে ধরতে পারলে এই নাশকতায় জড়িত আরো অনেককে গ্রেপ্তার করা যাবে।

সহিংসতায় জড়িতরা শনাক্ত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়ি ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। তাজহাট থানা, ডিসি ক্রাইম ও ডিবি অফিস, নবাবগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, মহানগর শ্রমিক লীগ অফিস এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল সেতু ভবনে। সেখানে আগুন দেওয়া হয়েছে। মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসের টোলপ্লাজায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরাও নানা আন্দোলনে ছিলাম। কখনো দলীয় অফিস, থানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করিনি।

চলমান সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, তাদের মদদদাতা, উসকানিদাতা এবং যারা ফায়দা লুটতে চেয়েছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। গতকাল দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের মেয়র, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত-বিএনপি সুসংগঠিতভাবে কোটা আন্দোলনে ঢুকে ধ্বংস-নৈরাজ্য চালিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারা স্বাধীনতাবিরোধী চক্র। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, তাদের উদ্দেশ্যই ছিল রাষ্ট্রকে অকার্যকর করা।

বস্তি থেকে আসা কিশোরদের ভূমিকা

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ভেতরে ঢুকে নাশকতা চালাতে বস্তির অল্পবয়সী কিশোরদের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া করে জামায়াত-শিবির। এরা নাশকতা, হামলা ও সহিংসতার মধ্যে অনেক স্থানে লুটপাটও চালায়। এর মধ্যে মেরুল বাড্ডা এলাকায় একটি ট্রাক থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। লুট করা মালের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে এক কিশোর অপর কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যাও করে।

ডিবি প্রধান যা বলছেন

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলটির বিভিন্ন শাখা এবং জামায়াত-শিবিরের একাংশের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে একটা ইস্যু তৈরি করে সরকার উত্খাতের পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী জামায়াত-শিবিরের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা রয়েছেন। তাঁদের অনেককে এর মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, হামলা, নাশকতা বাস্তবায়নে তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তরিকুল আলম অন্য নেতাদের কাছে তাঁর বার্তা পৌঁছে দিতেন।

পুলিশ মারলে ১০ হাজার, ছাত্রলীগ মারলে পাঁচ হাজার

যুবদল নেতা নুরে আলম সিদ্দিকি পিটন লন্ডন থেকে নির্দেশনা পান, পুলিশ মারলে ১০ হাজার এবং ছাত্রলীগ মারলে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এ ঘোষণার পর মাঠে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয় নুরে আলম সিদ্দিকির দুলাভাই মো. আব্দুল আজিজ ওরফে সুলতানকে। সুলতানকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গতকাল মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সরকার পতনের আন্দোলন বাস্তবায়নে মো. আব্দুল আজিজ সুলতান টোকাই ও ছিন্নমূল শ্রেণির লোকদের দিয়ে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির ক্যাডারদের নির্দেশনা দেন। নির্দেশনায় একজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মারলে পাঁচ হাজার টাকা এবং একজন পুলিশ সদস্য মারলে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।’

তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল আজিজ ছাত্রদের মিছিলে টাকার বিনিময়ে কিশোর-তরুণ ও অন্যদের ঢুকিয়ে দেন। এরপর তাদের দিয়ে দেশব্যাপী হত্যা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি ক্যাডারদের নির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা সহিংসতা করেছে, তারা যেন ঢাকা শহর ছাড়তে না পারে সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।

নাশকতায় জঙ্গিদের সম্পৃৃক্ততা খোঁজা হচ্ছে

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট অরাজক পরিস্থিতির নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি দলের সদস্যদেরও সম্পৃক্ততা খোঁজা হচ্ছে। গত কয়েক দিনের নাশকতার এসব ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি উগ্র মৌলবাদীগোষ্ঠীর সদস্যরাও ছিল।

সিটিটিসি ইউনিট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ আন্দোলনে যারা নাশকতা চালিয়েছে ও উসকানি দিয়েছে, এমন দু-একটি গ্রুপকে শনাক্ত করা হয়েছে। একজনকে গত মঙ্গলবার শনাক্ত করা হয়, যিনি এর আগে জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সিটিটিসি ইউনিট প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিগগিরই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারব।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট সূত্র বলছে, নরসিংদীর জেল পালানো দুই নারী জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পর এমন তথ্য পাওয়া যায়। তাঁরা হলেন ইশরাত জাহান মৌসুমী মৌ (৩০) ও খাদিজা পারভীন মেঘলা ওরফে মেঘনা (৩১)। গত বুধবার ভোরে সিটিটিসির চিরুনি অভিযানে ঢাকার মিরপুর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সারা দেশে ১১৩ অগ্নিসংযোগের ঘটনা

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সাত দিনে সারা দেশে ১১৩টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলেই (রাজধানী ও ঢাকা জেলা) ৯০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে ২৮১টি গাড়ি পোড়ানো হয়। ২৩৫টি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। ডিবি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে আগুন লাগানোর সময় গানপাউডার ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।
আরো পড়ুন

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯