শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৬ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বকেয়া বেতনের দাবিতে বরিশালে ফরচুন সু লিঃ শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ আগৈলঝাড়ায় বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ছদ্মবেশী নারী দাঁড় করিয়ে জমি বিক্রির অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্ত ও দলিল বাতিলের দাবি সততা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত চরফ্যাশনের ইউএনও রোমান আফরোজ বরিশাল সদরের চরকরজিতে সরকারি খাল ও চরের মাটি কাটার অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে লজিক ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি হাসিবুর, সম্পাদক সিয়াম বাড়ইকান্দি পবিত্র ঈদুল-আযহা উপলক্ষে নাইট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বিবাহিত বনাম অবিবাহিত খেলা অনুষ্ঠিত গৌরনদীতে জিয়াউর রহমান’র শাহদাত বার্ষিকী পালন গাঁজা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় ফেসবুকে হুমকি থানায় মামলার আবেদন। তজুমদ্দিনে অস্ত্র, কার্তুজ ও রকেট ফ্লেয়ারসহ কুখ্যাত ডাকাত হেজু গ্রেফতার। বরিশালে প্রেমিকের বাসায় গিয়ে খুন হলেন প্রেমিকা উজিরপুরে মামলার এক বছর: আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে অনীহার অভিযোগ ইউএনও ও সাংবাদিকের যৌথ উদ্যোগে মাথা গোঁজার ঠাঁই ও কর্মসংস্থান পেলেন অসহায় মাহিনুর বাকেরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় যুবকের মৃত্যু বরিশালের জেল খাল গিলে খাচ্ছে বহুতলা ভবন: নেপথ্যে সিটি কর্পোরেশনের ‘দুর্নীতিবাজ’ চক্র!
বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হলো, পরস্পরের দোষারোপে

বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হলো, পরস্পরের দোষারোপে

ঢাকা ডেস্ক :: পরস্পর দোষারোপ ও অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণা। দুই সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থীদের প্রতি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীদের অভিযোগ, সরকারদলীয় প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ প্রভাব বিস্তার করছেন নির্বাচনে। ভাষা আন্দোলনের মাসের প্রথম দিন অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনের মাঠ।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে হট্টগোল করতে ঢাকার বাইরে থেকে সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের এনে জড়ো করছে বিএনপি। অন্যদিকে বিএনপি অভিযোগ করছে, কেন্দ্র দখল করতে অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের ঢাকায় এনেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

প্রচারণার শেষদিকে এসে উৎসবমুখর ভোটকে ঘিরে কিছুটা হলেও সংশয় তৈরি হয়েছে। দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নির্বাচনী প্রচারকে ঘিরে গত কয়েক দিনে দুই বড় রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।

গত রোববার রাজধানীর গোপীবাগে ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর বুধবার আওয়ামী লীগের উত্তরের মেয়র প্রার্থীর পথসভায় একই দলের মনোনীত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

বড় দুই দলের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ভোট নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সাধারণ ভোটাররা। তারা বলছেন, নির্বিঘ্নে ভোট দেয়ার নিশ্চয়তা পেলেই তবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন তারা।

নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা ও ভোটের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ সমন্বিতভাবে ৩০ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে বা তাতে অংশ নিতে পারবেন না।

বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে রাজধানীর গোপীবাগ, মানিকনগর ও গেন্ডারিয়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস।

আর উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ভাসানটেক ও নতুনবাজার এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ ও পথসভা করেন। দলটির নেতাকর্মীরা ওয়ার্ডভিত্তিক নির্বাচনী মিছিল করে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

গোপীবাগে প্রচারণা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ ফজলে নূর তাপস। বিএনপির প্রতি অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি ১৭০টি কেন্দ্র দখলের একটা ষড়যন্ত্র ও পাঁয়তারা হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করব, যাতে তারা আশু পদক্ষেপ নেয়, সুষ্ঠুু পরিবেশ বজায় থাকে। আমি বিশ্বাস করি সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে নৌকা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি বাইরের জেলা থেকে প্রচুর লোকজন এনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ঢুকিয়ে গণ্ডগোল করার একটি পাঁয়তারা করা হচ্ছে। তারা চাচ্ছে সন্ত্রাস করে যেন ভোটের পরিবেশ নষ্ট হয়। নৌকার জোয়ার দেখে আমাদের প্রতিপক্ষরা অনেক ধরনের টালবাহানা করছে। তারা দেখেছে, আমরা যেখানেই গেছি সেখানেই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এসব দেখে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বহিরাগতদের দিয়ে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোয় হট্টগোল পাকিয়ে নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা করছে বিএনপি। সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে জনগণ ইচ্ছামতো, যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেয়ার পরিবেশ তৈরি হয়। নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোয় আমাদের নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারা দেবে, যাতে জনগণের ভোট রক্ষার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে পারি।

এদিকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা। তারা বলেছেন, ভোটের নিরাপত্তা, ভোটারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে। ভোটকেন্দ্র দখল করার জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে অস্ত্র ও দলীয় কর্মীদের ঢাকায় জড়ো করছে আওয়ামী লীগ।

মগবাজার এলাকায় শেষ নির্বাচনী পথসভায় ঢাকা উত্তরের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেন, ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে ও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে যেমন শঙ্কা আছে, তেমনিভাবে ইভিএম ব্যবহার নিয়েও শঙ্কা আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের অভিযোগ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেন, এটা একেবারে অবাস্তব একটা ব্যাপার। বরং আমার কাছে এ রকম একটা ডকুমেন্ট আছে যে ঢাকার বাইরে থেকে আওয়ামী লীগ জেলা কমিটি থেকে লোক পাঠাচ্ছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে তারা লঞ্চ-ভর্তি নেতাকর্মী ঢাকা শহরে জড়ো করছে। আমরা শঙ্কিত ভোটের দিন কী ঘটতে যাচ্ছে?

তবে বড় দুই দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মানতে নারাজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, যেকোনো সময়ের চেয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠুু পরিবেশ আছে। প্রার্থীরা তাদের প্রচার চালাচ্ছেন। কোনো বাধা দেখি না। আমাদের কাছে ধরপাকড়ের তথ্য নেই। কোনো ক্রিমিনাল, সন্ত্রাসী, বোমাবাজ যদি এখানে আসে, তাদের তো পুলিশ নজরদারিতে রাখবে ও ধরবেই। কোনো বাসাবাড়িতে তল্লাশি করা, রেইড করা হচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছি বিনা প্রয়োজনে কেউ যেন ঢাকায় না আসে। আবার বলেছি, ভোটকেন্দ্রের চারপাশে যেন অপ্রয়োজনীয় কোনো জটলা না থাকে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। ভোট দিয়ে যেন ভোটকেন্দ্রে কেউ না থাকে—এটি আমরা চাইছি।

ইসির সঙ্গে আওয়ামী লীগের বৈঠক: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে কোনো বিদেশী কেউ যেন মাতুব্বরি না করেন, সেদিকে নজর রাখতে নির্বাচন কমিশনকে পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম।

গতকাল নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। এইচটি ইমাম বলেন, বিশেষ দেশের কেউ যেন এখানে মাতুব্বরি না করেন। অন্যান্য দেশে এমন কোনো সুযোগ নেই। অন্য দেশে তাদের অনেক বিধিনিষেধ থাকে। অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। অনেক সময় অনেকেই অনেক কথা বলে ফেলেন, যাতে মনে হয় আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর কটাক্ষ করে ফেলেন। বাংলাদেশ আগের বাংলাদেশ নেই। আজকের বাংলাদেশে গণতন্ত্র সুসংহত।

ইসির সঙ্গে বিএনপির বৈঠক : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ জয় পেতে চায় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

গতকাল নির্বাচন ভবনে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি শুধু জিতবে না, বহু ভোটে জিতবে। তাই ভোট নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। সবাই মিলে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের পর্যায় নিয়ে গেছে। এখনো আশায় আছি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন চাইলে পরিবর্তন সম্ভব। চাইলেই জনগণের ভোট ফিরিয়ে দিতে পারেন তারা।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯