মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
ইরানের ভয়ংকর ফাঁদে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র? শরীয়তপুরে দুই পরিবারের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৭ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে, গোপন কক্ষে ছবি নয়: ইসি আগামীকাল থেকে ৮২ ঘণ্টা নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা নগরীতে মরিচ ছাড়াই তৈরি হয় মরিচের গুড়া! সিভিল সার্জনের তৎপরতায় বরিশাল সদর হাসপাতালে সেবার মান ও খাবারের গুণগত পরিবর্তন কাচিয়ায় সাফিজল মাতাব্বরের প্রচার প্রচারণায় ধানের শীষ মার্কার গণজোয়ার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আরো ৫০ টাকা বাড়ল এলপিজির দাম বরিশালে দলিল জালিয়াতি মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার মোহনা ক্লাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সাদমান ইসলামের সুন্নতে খতনা সম্পন্ন বরিশাল সদর হাসপাতালে সিভিল সার্জনের অভিযান: দুই নারী দালাল আটক সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা একমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ সিরাজগঞ্জ সলঙ্গায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ জনবান্ধব পুলিশিং ও সেবার রোল মডেল: কাউনিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম
ইরানের ভয়ংকর ফাঁদে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের ভয়ংকর ফাঁদে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র?

ইরানের ভয়ংকর ফাঁদে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র?
ইরানের ভয়ংকর ফাঁদে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র?

ক্ষেপণাস্ত্র, বিমানবাহী রণতরী এবং একের পর এক রেডলাইন ঘোষণ; সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এখন যুদ্ধের ঘনঘটা। ওয়াশিংটন, তেহরান এবং জেরুজালেমের মধ্যে শুরু হওয়া এই ঐতিহাসিক সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফর কোনো সাধারণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার ছিল না। তার মূল লক্ষ্য ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগে রাজি করানো। নেতানিয়াহুর দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিতে হবে এবং তাদের হাইপারসনিক মিসাইলের পাল্লা ও সংখ্যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে। ইসরায়েলের কাছে ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার প্রতিক্রিয়ায় কোনো লুকোছাপা করেননি। ইসরায়েলি চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, হয় একটি সম্মানজনক চুক্তিতে আসতে হবে, না হলে অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই কড়া হুঁশিয়ারি তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েয়েছে। তবে ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়; তারা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই প্রচ্ছন্ন হুমকিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমাতে কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এক ইঞ্চি ছাড় দিতেও নারাজ। ওমানে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কখনোই কোনো আলোচনা হবে না।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের বিপরীতে সুর চড়িয়েছেন। তার মতে, যেকোনো অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত করতে হবে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে মদদ দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং নিজেদের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপটি কি কেবল ইরানকে ভয় দেখানোর কৌশল নাকি সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি, তা নিয়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। র্যান্ড কর্পোরেশন ও সিএসআইএস-এর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রণতরী মোতায়েন অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে বড় ধরনের যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসছে, সব পক্ষ কি এক কৌশলগত অচলাবস্থার মধ্যে আটকে পড়েছে? ট্রাম্প পাঁচটি কঠিন শর্ত দিয়েছেন যা ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনার পথ খোলা রাখলেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে তাদের আত্মরক্ষার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের আলী ভায়েজ বলেছেন, তেহরানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র কোনো দরকষাকষির সরঞ্জাম নয় বরং এটি তাদের টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন। ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উদযাপনের সময় ইরানি শীর্ষ নেতা আলী শামখানিও বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে কোনো আপস হবে না। তাদের দৃষ্টিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা শত্রুর বিশাল সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী ঢাল।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার দাবিতে অনড়। ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে তিনি তার সন্দেহের কথা স্পষ্ট করেই বলেছেন। তার মতে, চুক্তি কেবল পারমাণবিক বিষয় নয়, বরং আঞ্চলিক ছায়া বাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানের পেছনে কাজ করছে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের ওপর আসা সম্ভাব্য মরণঘাতী হামলার ভয়। রাজনৈতিক এই দাবার চালে এখন দেখার বিষয় কে আগে পিছু হটে। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধ চান না, কারণ তার সমর্থক গোষ্ঠী মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন সংঘাতে ক্লান্ত। কিন্তু আবার চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে দুর্বল হিসেবে নিজেকে জাহির করার ঝুঁকিও তিনি নিতে পারছেন না।
এই সংকটের পেছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বিশাল ভূমিকা পালন করছে। ইসরায়েলি লবি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তার প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের জন্য চাপ দিচ্ছে। বিপরীতে ট্রাম্পের ‘মাগা’ সমর্থকরা এবং টাকার কার্লসনের মতো প্রভাবশালী কণ্ঠস্বরগুলো সতর্ক করে দিচ্ছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ হবে ভোটারদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। কার্লসনের মতে, এই যুদ্ধ হবে আমেরিকার সাধারণ মানুষের মুখে চপেটাঘাত। ফলে ট্রাম্পকে এখন বেছে নিতে হচ্ছে তিনি কি ইসরায়েলি লবির সাথে থাকবেন নাকি জনতুষ্টির নীতি মেনে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়িয়ে চলবেন।
প্রাচীন সমরবিদ সান জু-র শিক্ষা অনুযায়ী, শত্রুকে পিছু হটার জন্য একটি ‘স্বর্ণসেতু’ তৈরি করে দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা উভয়ই এমন এক অবস্থানে আছেন যেখান থেকে নিচে নামা তাদের জন্য সম্মানহানিকর। এই অচলাবস্থা ভাঙতে একটি সম্মানজনক সমঝোতার প্রয়োজন যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের জয় দাবি করতে পারবে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তারা যদি আন্তরিকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আলোচনা শুরু করে, তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তেহরান এখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে।
পুরো বিশ্ব এখন জেনেভায় অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় দফার ইরান-মার্কিন আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে। আরাঘচি যখন জেনেভার পথে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশ দমবন্ধ করা উত্তেজনা অনুভব করছে। রণতরীগুলো পারস্য উপসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, আর কূটনীতিবিদরা এক রাজধানী থেকে অন্য রাজধানীতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। ট্রাম্প কি শেষ পর্যন্ত এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বেন যা তিনি চান না? ইরান কি আমেরিকার শক্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করছে? নাকি নেতানিয়াহুর চাপ শেষ পর্যন্ত আমেরিকাকে বাধ্য করবে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়া কোনো সংঘাতে নামতে?
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯