শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
আনোয়ার হোসেন .. বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড ও কেবিনে ভর্তি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা এবং খাবারের মান নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এস.এম.মনজুর-এ-এলাহী। তার নিয়মিত তদারকি এবং কঠোর নির্দেশনার ফলে হাসপাতালের পরিবেশ ও রোগীর খাবারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে
খাবারের মান উন্নয়ন ও নতুন ডায়েট চার্ট
হাসপাতালের সাধারণ ও কেবিনে ভর্তি রোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন ডাঃ এস.এম. মনজুর-এ-এলাহী খাবারের মান উন্নত করতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বর্তমানে রোগীরা ডায়েট চার্ট অনুযায়ী সঠিক সময়ে মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন। রোগীদের পুষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে খাবারের মেনুতে নিয়মিত পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং খাবারের গুণগত মান যাচাই করা হচ্ছে।
সাধারণ বেডের রোগীদের জন্য বরাদ্দ (দৈনিক ১৭৫ টাকা):
সকাল: ৭৫ গ্রামের প্যাকেটজাত পাউরুটি (১ পিস), ফার্মের বড় লাল ডিম (১টি), এবং ৫.৫ ইঞ্চির পাকা সাগর কলা (১টি)।
দুপুর ও রাত: এসিআই মিনিকেট চাল (১৫০ গ্রাম), সোনালী মুরগির মাংস (৭০ গ্রাম), মিশ্র সবজি (গোল আলু, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পুঁই শাক, কাঁচা পেঁপে মিলে ১০০ গ্রাম), রূপচাঁদা সয়াবিন তেল (১০ গ্রাম), এসিআই লবণ (৫ গ্রাম), দেশি মসুর ডাল (১০ গ্রাম), পেঁয়াজ (১০ গ্রাম) এবং রান্নার জন্য এলপি গ্যাস।
কেবিনে ভর্তি রোগীদের জন্য বরাদ্দ:
সকাল: গ্রিন অ্যাপেল (১০০ গ্রাম), প্যাকেটজাত পাউরুটি (১৫০ গ্রাম), ফার্মের লাল ডিম (২টি), পাকা সাগর কলা (২টি), কমলা (১টি) এবং নোনতা বিস্কুট (৮৪.২৮ গ্রামের ২ পিস)।
বিশেষ দিবসের মেনু (নববর্ষ, বিজয় ও স্বাধীনতা দিবস, ঈদ):
বিশেষ দিনগুলোতে প্রতি রোগীর জন্য ২০০ টাকা বরাদ্দে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে:
সকাল: সবজি খিচুড়ি (এসিআই মিনিকেট চাল ৮০ গ্রাম, দেশি মসুর, সোনামুগ ও বুটের ডাল প্রতিটিতে ১৩ গ্রাম করে), মিশ্র সবজি (৫০ গ্রাম) এবং ১টি ফার্মের লাল ডিম।
দুপুর: চিনিগুঁড়া চালের পোলাও (১৭০ গ্রাম), সোনালী মুরগির মাংস (৬৫ গ্রাম), খাসির মাংস (৪০ গ্রাম) এবং রূপচাঁদা সয়াবিন তেল (৪০ গ্রাম)।সিভিল সার্জনের আকস্মিক অভিযান ও কঠোর নজরদারিতে সদর হাসপাতাল থেকে দালালের দৌরাত্ম্য প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে সাধারণ রোগীরা সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন।
পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা: হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি নিজেই নিয়মিত ওয়ার্ড পরিদর্শন করছেন।
২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ খোলা রাখাসহ চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রোগীদের কোনো সমস্যা হলে সরাসরি সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে অভিযোগ জানানো যাবে। এই বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য বরিশাল সিভিল সার্জন অফিসের অফিসিয়াল নোটিশ বোর্ড অথবা সিটিজেন চার্টার বিভাগ দেখা যেতে পারে।
আরো পড়ুন