মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুন্দরবনের নদীতে অস্ত্র হাতে দাপট দেখিয়েছেন দীর্ঘদিন। জলদস্যু তকমা নিয়ে অপহরণ, লুটপাটসহ নানা অপরাধ করেছেন। তাদের ভয়ে কাঁপত সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার জেলে ও অন্যান্য পেশাজীবীরা।
২০১৮ সালে র্যাবের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের ইউনুস আলী ও জাকির হোসেন। এরপর ওই উপজেলার কাটুনিয়া রাজবাড়ী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সবাই ভেবেছিল সুস্থ জীবনে ফিরে এসেছেন তারা। কিন্তু না, দস্যুতা ছাড়লেও অপরাধের দুনিয়া থেকে বের হতে পারেননি ইউনুস-জাকির। জল-জঙ্গলের জীবন থেকে লোকালয়ে এসে আয়ের নতুন উৎস হিসেবে শুরু করেছেন মাদক ব্যবসা।
স্থানীয়রা জানায়, ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের মুখ বন্ধ করে রেখেছেন তারা। পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা মাদক ব্যবসা। কেউ প্রতিবাদ করলেই চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন, ফাঁসানো হয় মিথ্যা মামলায়। কালীগঞ্জের জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ইউনুস আলী ও জাকির হোসেনের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার টেংরাখালী গ্রামে। তারা নিজ এলাকা ছেড়ে কালীগঞ্জে এসে মাদক ব্যবসা করছেন।
কালীগঞ্জের মাছ ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, ইউনুস আলী ও জাকির হোসেন প্রকাশ্যে ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক বিক্রি করেন। তাদের বাড়িতে মাদকসেবীদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউপির মেম্বার জিএম গোলাম মোস্তফা জানান, মাদক বিক্রির টাকা নিয়ে ইউনুস ও জাকিরের সঙ্গে মাদকসেবীদের অনেকবার বাকবিতণ্ডা-মারামারি হয়েছে। তাদের এলাকা ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও শোনেননি।
রতনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল হোসেন খোকন জানান, ইউনুস-জাকিরের কাছে দাপটের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। কেউ প্রতিবাদ করলে অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেন তারা। এ কারণে সবাই মুখ বন্ধ করে থাকে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউনুস আলী বলেন, ২০১৮ সালে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণের পর আমি কোনো অপরাধে জড়াইনি। আগে শ্যামনগরে থাকতাম, এখন কালীগঞ্জের কাটুনিয়া রাজবাড়ীতে নানার ভিটায় বসবাস করি।
তিনি আরো বলেন, কিছু মানুষ নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে না পেরে আমাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
কালীগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, ইউনুস আলী ও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।