বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক :: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন দায়িত্ব ও কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে বক্তব্য রাখেন তখন জাতি হতাশ হয়।
তার বক্তব্য আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়া একজন দিশেহারা রাজনীতিকের অসংলগ্ন প্রলাপ ও ব্যর্থতার বেসামাল বহিঃপ্রকাশ।
সারা বিশ্বের মানুষ একযোগে যখন এই সংকট মোকাবিলায় এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছে তখন অর্বাচীনের মতো মির্জা ফখরুলের রাখা বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করে। তাদের এই বালখিল্যতার কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মির্জা ফখরুলরা জনগণ দ্বারা প্রত্যাখিত হয়েছেন।
শনিবার তার নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলরা যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত এই সব কর্মসূচিকে ভিত্তি ধরে কোন প্রস্তাব দিতেন আমরা মনে করি সেটা জাতির জন্য আশাব্যঞ্জক হতো। কিন্তু তারা সেটা না করে সরকারের বিরুদ্ধাচারের নামে বিপরীত প্রস্তাব জাতির সামনে তুলে ধরে জাতিকে বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন করেছে।
আমরা লক্ষ্য করেছি, ভারতে এই দুর্যোগের সময়ে বিজেপি সরকার কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোনিয়া গান্ধী লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে সমর্থন জানিয়েছেন।
সারা বিশ্বের নেতৃবৃন্দ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেখানে মির্জা ফখরুল ও তাদের দল এই সংকটকে ঘণীভূত করে, জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে জনগণের ঐক্যের দুর্গকে নস্যাত করতে চায়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ-এর পক্ষ থেকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীরা জাতীয় এই দুর্যোগে যখন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, সাধারণ জনগণের পাশে থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করে চলেছেন ঠিক তখনই মির্জা ফখরুলরা ভুল তথ্য উপস্থাপন করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
দুর্যোগের এই মূহুর্তে বিভেদ নয়-এটা তাদের বোধগম্য নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীরা এই সময়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে জনগণকে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল করার কাজ করে চলেছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার শুরু থেকেই একটি গাইডলাইন প্রস্তুত করে রেখেছে এবং এই ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন ও দায়িত্বশীল জনগণকে প্রধান নিয়ামক ধরে সম্মিলিত প্রয়াস গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে।
শেখ হাসিনা আপদকালীন সময়ে জাতির অভিভাবক হিসেবে গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে সুুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। এর বাইরেও সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত ব্যয় বরাদ্দসহ দীর্ঘমেয়াদী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে রেখেছেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সনাক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদিন সারা দেশে কমপক্ষে ১০০০ এবং প্রতিটি উপজেলায় ২টি করে নমুনা পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরকার করোনা ভাইরাস সংক্রমণে অন্য দেশের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হওয়ায় মির্জা ফখরুলরা ব্যথিত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে হয়তো তারা খুশি হতেন। মৃত্যুর হার নিয়ে মির্জা ফখরুল যে মন্তব্য করেছেন সেটা থেকে প্রমাণিত হয় উনি গণিতের সাধারণ সূত্রই জানেন না। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম বলেই সেখানে মৃত্যুর হার বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক।
কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল যে প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন তা আমাদের অর্থনীতির ঊর্ধ্বগামী সম্ভাবনার বিপরীত। এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য জনগণকে শুধু হতাশই করতে পারে।
এডিবির এক অর্থনীতিবিদ যেখানে বলেছেন, এই সংকটের মধ্যেও এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থ বছরে সর্বোচ্চ হবে, সেখানে অর্থনীতির এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার এই প্রস্তাব সংকটকে আরো ঘণীভূত করবে।
এই সংকট, আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সম্ভাবনা বিচার বিশ্লেষণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জন্য জনগণের কল্যাণে কর্মসূচি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে চলেছেন।
শেখ হাসিনার গৃহীত পরিকল্পনায় সারা বিশ্ব যেখানে সম্ভাবনার নতুন সূর্যোদয় দেখে সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলামরা বরাবরে মতো মুখ ঘুরিয়ে রাখেন অন্ধকারের দিকে। জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত বিএনপি কখনই আলোর পথে আসতে চায় না। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণকে সচেতন করে গড়ে তোলার মাধ্যমে জনগণের সম্মিলিত প্রয়াস নিয়েই এই সংকট মোকাবিলা করবে, ইনশাআল্লাহ।