সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
রাজাপুর প্রতিনিধি :: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া এলাকা থেকে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়েও বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কনের বাড়ীতে ঝাকঝমক পূর্ণ আয়োজনে এ বিবাহ সংঘঠিত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থালে গিয়ে ৯ নং লেবুবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন কনের বাড়িতে আলোকসজ্জ্বা দারা পরিবেষ্ঠীত বাড়ির ভিতরে রঙিন প্যান্ডেল, ভুরিভোজের মহা আয়োজন ও হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বাধ্যযন্ত্রের আওয়াজে সরগরম।
যে কোন মেয়ের জন্যই বিয়ের দিনটি জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে ১৫ বছরের সাথী রানীকে তেমনটা মনে হচ্ছিলো না। তাকে দেখাচ্ছিল বিবর্ষ। কেননা কিশোরী সাথীকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে ৩২ বছর বয়সী এক যুবকের সংঙ্গে।
এ কারণেই দশম শ্রেনীতে পরুয়া মেয়েটিকে বিয়ের দিন ম্লান দেখাচ্ছিল। কিছুটা ভিত সন্ত্রস দেখাচ্ছিল তাকে। হয়ত কিশোরী বুঝতে পেরেছিল বিয়ের পরেই পড়াশুনা থামিয়ে দিতে হবে তাকে। বাল্য বিবাহের স্বীকার সাথী রানী এলাকার উত্ম কুমার শীল ও তীপ্তি রানী শীল দম্পত্তির দ্বিতীয় সন্তান। সে বাড়ি সংলগ্ন লেবুবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনি পরীক্ষা জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীন্ন হয়ে কাঠিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে অধ্যায়নরত ছিলেন।
সাথী রানীর জন্ম ২০০৫ সালের ১ লা জানুয়ারী। ঘটনার দিন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বাল্য বিবাহ থেকে কিশোরীকে রক্ষায় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে বার বার তথ্য প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কিশোরীকে বাল্য বিবাহের হাত থেকে শেষ রক্ষা করতে কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে জানান তারা।
সূত্র বলছে একই জেলার সদরে উপজেলার কীর্তিপাশা এলাকার মৃত. বিমল চন্দ্র শীলের পুত্র সমীর চন্দ্র শীল (৩২) এর সাথে সোমবার (২ মার্চ) মধ্য রাতে কনের বাড়িতে হিন্দু রীতি নীতি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বিবাহ সর্ম্পন্ন হয়। এ বিবাহ সম্পাদন করেন ঐ এলাকার পুরোহিত মন্টু চক্রবত্রী। কিশোরী সাথী রানী বর্তমানে বধু বেশে শশুরালয়ে রয়েছেন। কিশোরী সাথী রানী এস. ডব্লিউ.কাঠিপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীর অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী এবং মঙ্গলবার বিদ্যালয়ে সে অনুপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার দাস।
এ বিষয়ে রাজাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: জাহিদ হোসেন জানান, তথ্য পেয়ে আমি বিয়ে বাড়িতে অফিসার পাঠিয়ে ছিলাম। অভিভাবকরা তাদের কন্যা প্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে একটি জন্ম নিবন্ধন সরবারাহ করলে বয়স হিসাব করে সঠিক পাওয়ায় অফিসার ফিরে আসেন।