শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক :: ক্যাসিনো কাণ্ডের অন্যতম হোতা একেএম মমিনুল হক সাঈদ। ঘটনা জানাজানি হওয়ার আগেই পালিয়ে গেছেন সিঙ্গাপুরে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই বহিস্কৃত কাউন্সিলর সিঙ্গাপুরে থেকেও বসে নেই। নিজের সম্রাজ্য আর প্রতিপত্যি ধরে রাখতে চালাচ্ছেন নানামুখি তৎপরতা। জনপ্রতিনিধিত্ব হারালেও এবার হকি ফেডারেশনের এই সাধারণ সম্পাদক পদ ধরে রাখতে চিঠি দিয়েছেন সভাপতির কাছে। সম্প্রতি পাঠানো সাঈদের এই চিঠি জন্ম দিয়েছে নতুন আলোচনার।
সিঙ্গাপুর পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে হকি ফেডারেশনের দুই সভায় পাওয়া যায়নি সাঈদকে। ফেডারেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ২১ ডিসেম্বর মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকলেই পদ হারাবেন।
সাঈদের এমন চিঠি পেয়ে ‘অবাক’ ফেডারেশন কর্মকর্তারা। তাদের প্রশ্ন, টাকা লোপাটকারী এই বহিষ্কৃত কাউন্সিলর চিঠি পাঠানোর স্পর্ধা পেল কোথায়। চিঠি পেয়ে অবশ্য হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তার ঠিকানা জানতে হোয়াটস অ্যাপে পাল্টা চিঠি দেয়া হয়।
সাঈদ তার চিঠিতে হকি ফেডারেশনে তার কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। পালিয়ে যাওয়ার পর গত ২৮ অক্টোবর এবং ১৪ নভেম্বর ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। আগামী ২১ ডিসেম্বরের বৈঠকে উপস্থিত না থাকলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে শোকজ পাঠানো হবে। এরপরই শুরু হবে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া।
হকির সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই চিঠি‘ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং’ এবং অপতৎপরতার একটি অংশ।
সাঈদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিঙ্গাপুরের মোস্তফা সেন্টারের পাশেই ফেরার পার্ক এলাকার অভিজাত ‘সিটি স্কয়ার’ ভবনের একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে পরিবার নিয়ে অবস্থান করছেন তিনি। মোস্তফা সেন্টার ও সিটি স্কয়ারের মাঝামাঝিতে অবস্থিত ‘হান্ডি’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে মাঝে মধ্যেই তাকে দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, ফকিরাপুল ও আরামবাগে বেশ কয়েকটি ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে নাম আসে সাবেক এই কাউন্সিলরের। শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর এসব বিষয় জানাজানি হলে তার নাম ‘ক্যাসিনো সাঈদ’হয়। বঙ্গভবন কলোনিতে বেড়ে ওঠা সাঈদ ২০১৫ সালে ওই এলাকার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ওই সময়েই ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা চালু করেন। কাঁচা টাকা। এই ক্লাব পরিচালনায় তার পার্টনার ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার। এ ছাড়া আরও চারটি ক্লাবের ক্যাসিনোর ব্যবসা ছিল সাঈদের নিয়ন্ত্রণে।