সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক :: চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অলঙ্করণ: তিয়াসা দাস
অভিনয়ের ভুল সংশোধনের নামে তাঁকে ‘ধর্ষণ’ করা হয়েছে। নাট্যব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন অধ্যাপক সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ আনলেন তাঁরই এক ছাত্রী। সুদীপ্তর নাটকের দল ‘স্পেক্ট্যাক্টরস’-এ নিয়মিত অভিনয় করতেন ওই তরুণী। বুধবার রাতে ‘গোটা ঘটনা’র সবিস্তার বিবরণ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ওই তরুণী। ইতিমধ্যেই হাজারেরও বেশি বার শেয়ার হয়েছে তাঁর পোস্ট। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মিডিয়া সায়েন্স’-এর ‘পারফরম্যান্স অ্যান্ড মিডিয়া’ বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন সুদীপ্ত। তাঁর বাড়িতেই হত দলের যাবতীয় রিহার্সাল। তরুণীর অভিযোগ, তাঁকে সুদীপ্ত ডেকেছিলেন মহড়ার নামেই। কিন্তু সে সময় দলের অন্য কোনও সদস্য সেখানে ছিলেন না। এমনকি, বাড়িতে ছিলেন না সুদীপ্তর স্ত্রী-ও। তরুণী বাড়িতে পৌঁছনোর পরে কোনও কাজে তিনি বেরিয়ে যান। বাড়িতে ছিলেন সুদীপ্ত এবং পরিচারক। সে রকম একটি পরিস্থিতিতেই সুদীপ্ত শুরু করেন ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’। তরুণীর অভিযোগ, অভিনয় শেখানোর নামে প্রথমে তাঁর শ্লীলতাহানি এবং পরে ধর্ষণ করেন সুদীপ্ত। এবং সেই অবস্থায় তাঁকে জোরে, আরও জোরে সংলাপ বলতে বলেন সুদীপ্ত। ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন ওই মঞ্চাভিনেত্রী।
যদিও ওই পোস্ট সর্বৈব তথ্যবিকৃতি বলে দাবি সুদীপ্তর। এই নাট্যব্যক্তিত্বের বক্তব্য, স্টেজ শো হওয়ার পরে তাঁর মনে হয়, নামভূমিকায় অভিনয়কারী ওই তরুণীর অভিনয়ে খামতি ছিল। তাই ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’ প্রয়োজন অভিনয় তথা থিয়েটারের স্বার্থেই। এবং তিনি নন, ওই তরুণীই তাঁর কাছে অনুরোধ করেছিলেন ত্রুটি সংশোধনের, দাবি সুদীপ্তর। অনুসন্ধান ২৪কে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ওই ছাত্রীকে তিনি ধর্ষণ করেননি। বরং, ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’ বা ডায়াফ্রাম ব্রিদিং এক্সারসাইজ-এর অনুশীলনীর অংশ হিসেবে যেটুকু আংশিক নগ্নতা বা পার্শিয়াল নুডিটি এসেছে, শরীরী স্পর্শ হয়েছে, তা সম্পূর্ণটাই ঘটেছে তরুণীর সম্মতিক্রমে। সেখানে সুদীপ্তর তরফে যৌনতা বা অশালীনতার কোনও চিহ্নই ছিল না। তিনি ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক করাবেন, এটা জেনেই তরুণী তাঁর বাড়িতে সে দিন এসেছিলেন, দাবি সুদীপ্তর। এমনকি, ‘ডায়াফ্রাম ব্রিদিং টেকনিক’ কী, সে বিষয়েও তিনি তরুণীকে আগেই বিশদে জানিয়েওছিলেন।
সুত্র আনন্দবাজার