সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
বন্যপ্রাণি ও মাছের প্রজনন মৌসুম শেষে আগামী এক সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। এর আগে এক জুন থেকে ৩১ আগস্ট সুন্দরবনে মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। ট্যুর অপারেটরদের আশা, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ঢল নামবে।
বিশ্বের একক এ বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনকে ১৮৭৮ সালে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সুন্দরবনের মোট আয়তন ছয় হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগের পরিমাণ চার হাজার ১৪৩ বর্গ কিলোমিটার এবং জলভাগের পরিমাণ এক হাজার ৮৭৩ বর্গ কিলোমিটার। সুন্দরবনের মোট তিন লাখ ১৭ হাজার ৯৫০ দশমিক ০৮ হেক্টর এলাকা অভয়ারণ্য। সেই হিসেবে এখন সুন্দরবনের মোট আয়তনের শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি অভয়ারণ্য।
সুন্দরবনে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, ৩৭৫ প্রজাতির অধিক বণ্যপ্রাণি এবং সর্বশেষ জরিপ অনুসারে সুন্দরবনে ১১৪টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। সুন্দরবনে ৪৫০টি ছোট-বড় নদী, খাল জালের মতো জড়িয়ে রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বন্যপ্রাণির প্রজনন মৌসুমে জুন, জুলাই ও আগস্ট। এই তিন মাস সুন্দরবনে পর্যটক এবং জেলেসহ সব ধরণের মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময় বন্যপ্রাণি নির্বিঘ্নে প্রজনন করতে পেরেছে।
তিনি আরও জানান, এখন বনের বিভিন্ন এলাকায় হরিণ, বানর, গুইসাপ অজগরসহ বিভিন্ন ধরণের বন্যপ্রাণি ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এরিমধ্যে পর্যটকদের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত সুন্দরবন। তিন মাস মানুষের প্রবেশে নিষেধ থাকায় বন্যপ্রাণিসহ নদী, খালে মাছও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোংলার দি সাউদান ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের এমডি মো. মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সুন্দরবনে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। ওই দিন ৭০ জন পর্যটক নিয়ে তিনদিন ভ্রমণের জন্য তার নৌযান সুন্দরবনে প্রবেশ করবে। তিন দিনের প্যাকেজে জন প্রতি সাড়ে আট থেকে নয় হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে।