বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৭ পূর্বাহ্ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূর্বশত্রুতার জেরে ইমন মিয়া (২৪) নামে এক তরুণকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতে উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের থোল্লাকান্দি গ্রামে তাঁর ওপর হামলা হয়। গুরুতর অবস্থায় ইমনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ডাক্তার বলেছেন, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে বড়িকান্দির গণিশাহ দরবার শরিফের সামনে একটি হোটেলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মনেক মিয়ার ছেলে শিপনসহ দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় তাঁর ভাই ইমন সাক্ষী। এ কারণেই তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ ইমন থোল্লাকান্দি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার হোসেন মিয়ার ছেলে। তাঁর সঙ্গে থাকা বড় ভাই তরিকুল মিয়ার ভাষ্য, ইমনের বুকে সন্ত্রাসীরা তিনটি গুলি করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ইমন মিয়া (২৪) রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে একই গ্রামের তালতলা বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ একাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে আসা ১০-১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ইমনের গতিরোধ করে। কিছু বুঝার আগেই তাঁকে লক্ষ করে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত ইমনকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, বড়িকান্দি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের কারবার চলছে। এ নিয়ে একাধিক বাহিনীর মধ্যে মারামারি লেগেই থাকে। সাধারণ মানুষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ভয়ে চরম আতঙ্কে থাকেন।
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম, পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব নাথ।
মাদকের কারবার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরোধের কথা স্বীকার করেন ওসি রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ওই বিরোধের জেরেই সোমবার রাতে ইমন গুলিবিদ্ধ হয়। সে এলাকার কুখ্যাত মনেক ডাকাতের পক্ষের লোক। ঘটনার পরপরই হামলাকারীদের ধরতে সারারাত পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়েছে। এখনও কেউ ধরা পড়েনি।