বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
ঢাকার দোহারে জমির বিরোধ মেটাতে লক্ষাধিক টাকা দাবির ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত রোববার রাতে উপজেলা বিএনপির প্যাডে স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যকে এ বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন সুতারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাঈদুল ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শুভ আহম্মেদ মুন্সি।
সুতারপাড়া ইউনিয়নের গাজীরটেক মৌজায় জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে ওই দুই নেতা লক্ষাধিক টাকা দাবি করেন। বিষয়টি ফেসবুকে রোববার ছড়িয়ে পড়লে তৎপর হয় স্থানীয় প্রশাসন। তাদের হস্তক্ষেপে ভুক্তভোগী পরিবার দোহার থানার ওসি বরাবর একটি অভিযোগ দেন।
বহিষ্কারাদেশ বিষয়ে দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মেছের জানান, জনসাধারণের মাঝে বিএনপির ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সমালোচিত কাউকে দলে রাখা যাবে না। এ নির্দেশ দলের হাইকমান্ডের। এরই ধারাবাহিকতায় বহিষ্কারের ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ জানান, কোনো নেতাকর্মীর জবরদখল ও দ্বন্দ্ব কাম্য নয়। এখন থেকে দলের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ার দিকে দৃষ্টি আমাদের।
এ বিষয়ে সদ্য বহিষ্কৃত সুতারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাঈদুল বলেন, ওই ঘটনার উভয় পক্ষই আমাদের পরিচিত। সবার মঙ্গলের কথা ভেবেই আলোচনায় বসছিলাম বিষয়টি সুরাহা করতে। শত্রুতাবশত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার আজ ধ্বংস।
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শুভ আহম্মেদ মুন্সি বলেন, আমি ওই ঘটনায় জড়িত নই। মো. সাঈদুল মোবাইল ফোনে অনুরোধের কারণে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। কারও কাছে চাঁদা আমি করিনি। তার পরও দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলব।
দোহার থানা ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, অভিযুক্তরা মামলার ভয় দেখিয়ে লক্ষাধিক টাকা দাবি করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের টিম তদন্ত করছে। তবে চাঁদা দাবি নিয়ে অভিযোগকারী চারজনের কথায় গরমিল পাওয়া গেছে।