বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
গাইবান্ধা শহরের মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে নির্মমভাবে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ৩৭ বছর বয়সী মুর্শিদ হক্কানী বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় তাঁর বড় ভাই আওরঙ্গজেব হক্কানী বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বজনরা জেদ করে দেখা করতে চাইলে দীর্ঘ সময় পর মুর্শিদকে তাদের সামনে আনা হয়। এ সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। তড়িঘড়ি করে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর বেরিয়ে আসে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা।জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন মুর্শিদ হক্কানীকে সুস্থ করার আশায় গত বছরের আগস্টে ‘জিইউকে মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে’ ভর্তি করা হয়। শুরুতে মুর্শিদ হক্কানীর সঙ্গে পরিবারের দেখা করতে দিলেও ধীরে ধীরে নানা অজুহাতে সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। মুর্শিদ হক্কানী জানান, কেন্দ্রের ভেতরে একটি ঘরে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো যেন চিৎকার করতে না পারেন। এরপর লোহার রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। এমনকি পা বেঁধে জানালার গ্রিলের সঙ্গে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হতো তাঁকে। যন্ত্রণায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন। ঘটনা কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
গুরুতর অসুস্থ মুর্শিদকে বর্তমানে গাইবান্ধা চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাই ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. আসিফ উর রহমান বলেন, মুর্শিদ হক্কানীর শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জিইউকের কাউন্সিলর মো. কাবিউল আজাদ জানান, মুর্শিদ হক্কানীর সঙ্গে নিরাময় কেন্দ্রের অন্য রোগীদের মারামারি হয়। অফিসের কেউ তাঁকে মারধর করেনি।
জিইউকের সমন্বয়কারী আফতাব হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তে প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।