বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বিএনপির ২ নেতাকে বহিষ্কার গাইবান্ধা মাদক নিরাময় কেন্দ্রের আড়ালে ‘টর্চার সেল’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুলিতে হত্যা মামলার সাক্ষী এবার বলি ২৫জন মন্ত্রী শপথ নিলেন নতুন সরকারের যাত্রা শুরু ইরানের ভয়ংকর ফাঁদে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র? শরীয়তপুরে দুই পরিবারের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৭ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে, গোপন কক্ষে ছবি নয়: ইসি আগামীকাল থেকে ৮২ ঘণ্টা নিজ এলাকার বাইরে অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা নগরীতে মরিচ ছাড়াই তৈরি হয় মরিচের গুড়া! সিভিল সার্জনের তৎপরতায় বরিশাল সদর হাসপাতালে সেবার মান ও খাবারের গুণগত পরিবর্তন কাচিয়ায় সাফিজল মাতাব্বরের প্রচার প্রচারণায় ধানের শীষ মার্কার গণজোয়ার বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আরো ৫০ টাকা বাড়ল এলপিজির দাম বরিশালে দলিল জালিয়াতি মামলার ৩ আসামি গ্রেপ্তার
ধ্বংসের পথে যুবসমাজ মাদকের জয়লাব

ধ্বংসের পথে যুবসমাজ মাদকের জয়লাব

ধ্বংসের পথে যুবসমাজ মাদকের জয়লাব
ধ্বংসের পথে যুবসমাজ মাদকের জয়লাব

অনুসন্ধান২৪>>মহেশখালীর ১ পৌরসভা ও ৮ ইউনিয়নজুড়ে মাদক ব্যবসা ও সেবনের ভয়াবহ বিস্তার দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে মদের কারখানা, বিক্রয়কেন্দ্র ও সাগরপথে মদ–ইয়াবা পাচারের কারণে এ অঞ্চলের যুবসমাজ ধীরে ধীরে অন্ধকার জগতে ধাবিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে।

পৌরসভার হিন্দুপাড়া, বলরামপাড়া, বড় রাখাইন পাড়া ও ছোট রাখাইন পাড়ায় মদের উৎপাদন কেন্দ্র চালু রয়েছে। চৌফলন্ডী ও ঈদগাহ এলাকা থেকে আনীত মদ টাইগার ও গিয়ারের বোতলে ভরে প্রতি বোতল ১৫০ টাকায় গোপনে বিক্রি করা হয়।বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পাহাড়তলী ও দেবাঙ্গপাড়ায় রাতের আঁধারে মদের কারখানা পরিচালিত হয়। এখান থেকে টমটম, মিশুক ও সিএনজি যোগে বিভিন্ন এলাকায় মদ সরবরাহ করা হয়।

ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের কালমাদিয়াঘোনা, মিথারছড়াঘোনা, মুদিরছড়া ও ছোট রাখাইনপাড়ায় একইভাবে মদ উৎপাদন হয়। পাশাপাশি চৌফলন্ডী ঘাট থেকে নৌকা ও ফিশিং বোটে ড্রামভর্তি মদ এনে বিতরণ করা হয়।শাপলাপুর ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া ও ছোট রাখাইনপাড়ায় স্থানীয়ভাবে তৈরি মদ খুচরা বিক্রি হয়। কুতুবজোম ইউনিয়নের বটতলী সংলগ্ন নতুনপাড়ায় সাগরপাড় ঘেঁষে তৈরি মদের কারখানা বিশেষ করে ফিশিং বোটের শ্রমিকদের কাছে মদ বিক্রি করে থাকে।

হোয়ানক ইউনিয়নের কালাগাজিরপাড়া ঘেঁষে পাহাড়ে গড়ে উঠেছে মদের গোপন কারখানা, যেখান থেকে নিয়মিত মদ সরবরাহ করা হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কালারমারছড়ায়। ইউনিয়নটির একাধিক মামলার আসামি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী তারেক বাহিনীর সদস্যরা পাহাড়ের গভীরে বিশাল ডিপো তৈরি করে বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছে মদ সরবরাহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে তারা সাগরপথে ইয়াবার চালান আনা–নেওয়া, পাহাড়ে অস্ত্র তৈরি ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেগুলো পাচারের সঙ্গেও জড়িত বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সড়ক ও চিংড়িঘের ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

মাতারবাড়ি ইউনিয়নের সাগরপাড়ঘেঁষা বিভিন্ন স্থানেও মদ উৎপাদন ও খুচরা বিক্রি চলে। ধলঘাটা ইউনিয়নে বাচ্চু বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে মদ তৈরি ও বিক্রি করে—এমনকি সাগরপথে ইয়াবা আনা ও বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে।মদ উৎপাদনকারী সমীর চন্দ্র দে জানান, “আমরা বড় ব্যবসায়ী নই। হালকা-পাতলা খুচরা বিক্রি করি, তা-ও মাঝে মধ্যে। আমাদের প্রতিপক্ষরা বড় আকারে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

অন্যদিকে মদ সেবনকারী রইস উদ্দিন বলেন, “আমি নিয়মিত মদপান করি না। বন্ধুদের আড্ডা বা বিবাহ অনুষ্ঠানে মাঝে মধ্যে একটু মজা করি।”এ প্রসঙ্গে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায়সার হামিদ বলেন, “মাদক ও মদের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করি। কোথাও মদ উৎপাদন বা সেবনের তথ্য পেলেই আমরা দ্রুত অভিযান চালাই। মাদকসহ যেকোনো অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত।”

মহেশখালীবাসী মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন

 

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © অনুসন্ধান24 -২০১৯