সোমবার, ০৮ Jun ২০২৬, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন
সে আসে অপ্রত্যাশিতভাবে
লোক চক্ষুর অন্তরালে, নিরবে, নিভৃতে,
দিনের আলোয় কিংবা রাতের আঁধারে,
দিগ্বিজয়ী বীরের বেশে।
নেই কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ, নেই শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা,
কাউকেই সে তোয়াক্কা করে না,
ভাবটা এমন–কুচ পরোয়া নেহি হ্যায়।
তার আগমনী বার্তায় থরথর করে কাঁপছে
তাবৎ বিশ্বের রথী-মহারথীরা, তার জন্য
পিতা-মাতা সন্তানকে ঠেলে দিচ্ছে দূরে,
সন্তান ঠেলে দিচ্ছে প্রিয় পিতা-মাতাকে,
স্বামীকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে প্রিয়তমা স্ত্রী
কিংবা স্ত্রীকে প্রিয়তম স্বামী।
বিশ্বের সমস্ত পরাশক্তি তার কাছে ধরাশায়ী,
সে ভয় পায় না কোনো মারণাস্ত্রকে,
আনবিক, পারমানবিক বোমাও তার কাছে তুচ্ছ।
মানুষ ভুলে গেছে করমর্দন, কোলাকুলি,
আদর, স্নেহ, ভালোবাসা।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে সকলে।
বন্ধ হয়েছে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা,
নিত্যপণ্য ব্যতীত সমস্ত দোকানপাট, বিপণীবিতান, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিংমল, ক্লাব ও বার।
হচ্ছে না জনসমাগম, মিটিং, মিছিল,
থেমে গেছে সামাজিক আচার অনুষ্ঠান
কোলাহল হই চই, খেলাধুলা।
পৃথিবী জুড়ে চলছে জনতার কারফিউ, লকডাউন, হোম কোয়ারেন্টাইন।
দেশের সঙ্গে দেশের, শহরের সঙ্গে শহরের
বিমান, রেল, বাস-সহ সব যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন।
কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ,
স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি,
আমদানী-রপ্তানী ও কল কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা।
যুগে যুগে কত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী এসেছে
পূর্ব জন্মে কেউ কি এ রকম শুনেছে বা দেখেছে?
একই কারণে একই সময়ে পুরো পৃথিবী আজ
অমানিশার ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত, স্তম্ভিত।
কারো বিপদে কেউ এগিয়ে আসারও জো নেই
বিশ্বের তাবৎ মানুষের ওপর হামলে পড়েছে সে,
তার জন্য প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে
হাজার ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে লাখে,
তার কাছে নেই কোনো জাতিভেদ,
ছোট-বড়, সাদা-কালো, হিন্দু, মুসলিম,বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান।
তার আগমন ঠেকাতে সবাই এক কাতারে নেমেছে প্রতিরোধ যুদ্ধে, একেবারেই শূন্য হাতে,
কেননা তাকে হত্যার অস্ত্র নেই,
এখনো তৈরি হয়নি কোত্থাও।
প্রিয়জনের লাশের জানাজায় সামিল হতে
ভয় পাচ্ছে মানুষ, দাফনেও কেউ যেতে চাচ্ছে না।
কার ভয়? কীসের ভয়? কে সে?
সে ছোট্ট এক জীবানু, একটি ভাইরাস
মানব বিশ্বে এক আতঙ্কের নাম-
মহামারী নোভেল করোনাভাইরাস।
চীনের উহান প্রদেশে তার জন্ম
সে ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিনিয়ত, ছড়িয়েই যাচ্ছে সর্বত্র
আকাশে, বাতাসে, বস্তুর মাধ্যমে মানবদেহে
একজন থেকে আরেকজনে।
সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী মানুষ আজ দিশেহারা।
কবে থামবে সে?
কবে শুনবো শান্তির বার্তা?