বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>>রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিনজন শিক্ষার্থীর ওপর হোটেলে খাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। হামলার পরে আহত দুই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তারা হেলমেট ও মুখোশ পরা ছিল।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা ফটকের সামনে ‘কাজলা ক্যান্টিন’ নামক হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্র এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ঘটনার পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাজলা ফটকের সামনে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ফিন্যান্স বিভাগের ২০২১-২১ শিক্ষাবর্ষের আল ফারাবী, ২০২৩-২৪ বর্ষের তাহমিদ আহমেদ বখশী এবং নাট্যকলা বিভাগের ২০২৩-২৪ বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মিনহাজ। আহত আল ফারাবী নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হল শাখা দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যূত্থানের সময় ১৫ জুলাইয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সর্বপ্রথম’ সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী, ভুক্তভোগী, প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলায় অবস্থিত কাজলা ক্যান্টিনে রাতের খাওয়া-দাওয়া করছিলেন ফারাবী ও তার সঙ্গীরা। এসময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে ও হেলমেট পরা একটি দল ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে হোটেলে আসে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ছবি দেখিয়ে একজনের খোঁজ করেন। এর একপর্যায়ে হুট করে তারা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। তাদের হাতে হাতুড়ি, রড, রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্রও দেখা গেছে। পরে সেখান থেকে মারধর করে ফারাবী এবং বখশীকে তুলে নিয়ে যায়।
রাত পৌনে ১২টার দিকে ফারাবীকে বিনোদপুর এলাকায় বেতার মাঠের পাশে এবং বখশীকে হবিবুর রহমান হলের সামনের থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পরে অপহরণের শিকার শিক্ষার্থী ফারাবীর পিঠের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে ফারাবী এবং মিনহাজ রামেকে চিকিৎসা নেন। ফারাবী বর্তমানে রামেকের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। অন্যদিকে বখশীকে হবিবুর রহমান হলের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘আমরা এখানে বসে খাবার খাচ্ছিলাম। এসময় হেলমেট ও মুখোশ পরে একদল লোক একজনের ছবি দেখিয়ে তার খোঁজ করে। হঠাৎ তারা এলোপাতাড়ি হামলা চালায় এবং দুজনকে তুলে নিয়ে যায়। হামলাকারীদের হাতে লোহার রড, রামদা, ছুরিসহ নানান অস্ত্র ছিল। তাদের আঘাতে আমাদের আরও এক শিক্ষার্থীর কোপ লাগে।’
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তামজিদ হাসান বখশী বলেন, ‘আমরা কাজলায় রেস্টুরেন্টে বসে খাচ্ছিলাম। এসময় ১০-১৫টি মোটরসাইকেল মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত একটি দল হোটেলে এসে আমাদের ওপর হামলা করে। পরে তারা আমাকে হোটেলের সামনে ফেলে পিটায় এবং আমাকে রিকশায় করে তুলে নিয়ে সুইটের মোড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে অন্ধকারে বসায় এবং নানান প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। এর ভেতর একটি কল আসে এবং তাদের বলে আসলটাকে পেয়েছি। পরে আমি বলি, আমি ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নই। আমি আন্দোলনের পরে ক্যাম্পাসে এসেছি। তখন আমাকে নিয়ে কাজলাস্থ মোল্লা স্কুলের এখানে রেখে চলে যায়। হামলাকারীরা কারা ছিল, মুখ বেঁধে রাখার কারণে আমি চিনতে পারিনি।’
অপহরণ শিকার আরেক শিক্ষার্থী আল ফারাবী বলেন, ‘হামলা শেষে আমাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে আমাকে পথে মারতে থাকে এবং বেতার মাঠের পাশে আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়।’
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শংকর কে. বিশ্বাস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাদের একজন এখানে ভর্তি আছেন। উভয়েরই শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কালসিটে দাগ রয়েছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘কাজলায় আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এসময় আমাদের দুই শিক্ষার্থীকে দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে যায়। তাদের দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।’
জানতে চাইলে নগরের মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমাদের অভিযান এখনও চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’