বৃহস্পতিবার, ৩০ Jul ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন
অনুসন্ধান২৪>>দলিল হাতে থাকলেও পাঁচ ধরনের জমির দখল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। ২০২৫ সালের মধ্যেই এসব ভূমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে একাধিক পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—দলিল বৈধ হলেও মালিকানা বা দখলের আইনগত ভিত্তি না থাকলে সেই জমি আর দখলে রাখা যাবে না। প্রয়োজন হলে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।
সরকার বলছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা ‘দলিল যার, জমি তার’ সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ বহু ক্ষেত্রে দলিল ঠিক থাকলেও সেগুলোর পেছনে মালিকানা, উত্তরাধিকার বা সরকারি স্বত্ব সম্পর্কিত জটিলতা থাকে।
যে পাঁচ ধরনের জমি ছাড়তে হবে
১. সাব–কবলা দলিল
উত্তরাধিকার বণ্টন সম্পন্ন না করেই করা সাব–কবলা দলিল বাতিলযোগ্য। কোনো ওয়ারিশকে বঞ্চিত করে দলিল করা হলে আদালতের রায়ে দখলদারের অধিকার খারিজ হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে এসব দলিল যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. হেবা দলিল হেবা দলিল তখনই বৈধ, যখন দাতা সম্পত্তির পূর্ণ মালিক এবং হেবার নিয়ম মানা হয়। ভুল প্রক্রিয়া, শর্ত ভঙ্গ বা মালিকানা–সংক্রান্ত অসঙ্গতি পেলে এসব হেবা দলিলও বাতিল ঘোষণা করা হবে।
৩. জাল বা প্রতারণার মাধ্যমে করা দলিল
ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার কারণে এখন জাল বা প্রতারণামূলক দলিল সহজেই শনাক্ত করা যাচ্ছে। সাব–রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মাধ্যমে তৈরি দলিলও বাতিল হবে—প্রকৃত মালিক যথাযথ প্রমাণ দিলে তার নামেই যাবে জমির মালিকানা।
৪. খাস খতিয়ানের জমি
সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি বা ভোগ করা অবৈধ। খাস জমির ওপর দলিল থাকলেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে, এবং জমি ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. অর্পিত ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি
যুদ্ধ–পরবর্তী সময়ে পরিত্যক্ত হয়ে পড়া অর্পিত সম্পত্তি কেউ ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করতে পারবে না। এসিল্যান্ডের মাধ্যমে এসব জমি শনাক্ত করে সরকারের অনুকূলে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
পরিপত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এই পাঁচ ধরনের জমির দখল আদালতের রায় না থাকলে টিকবে না। বহু বছর ধরে দখলে থাকা ভূমিও আইনগত ভিত্তি না থাকলে ছাড়তে হবে দখলদারকে। ফলে সংশ্লিষ্টদের এখনই আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে আইনি প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্দেশ্য: সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত
ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে
* সরকারের নিজস্ব সম্পত্তি পুনরুদ্ধার,
* দলিল জালিয়াতি রোধ,
* প্রকৃত উত্তরাধিকারীর অধিকার নিশ্চিত
এবং
* রাজস্ব আয় বৃদ্ধি
লক্ষ্য রাখা হয়েছে।